পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও ভারতের দিল্লিতে সাম্প্রতিক বোমা বিস্ফোরণের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্তে একে অপরের দিকে অভিযোগের খেলা চলছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা এই হামলার জন্য ভারত ও তার প্রক্সি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছেন। ইসলামাবাদ বিস্ফোরণটি আফগানিস্তান থেকে পরিকল্পিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। শেহবাজ শরীফ এই ঘটনাকে “ভারতের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা দাবি করেছেন।
অন্যদিকে ভারত এই অভিযোগগুলোকে “ভিত্তিহীন ও অসত্য” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দিল্লি পুলিশ বিস্ফোরণের তদন্তে ১৯৬৭ সালের ‘আনলফুল অ্যাকটিভিটিজ প্রিভেনশন আইন’ (ইউএপিএ) প্রয়োগ করেছে। বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়ির মূল মালিক ও বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়ী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রকাশ করা হয়নি, এবং ভারত পাকিস্তানকে এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযুক্ত করেনি।
ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, পাকিস্তানের অভিযোগসমূহ দেশীয় সমস্যার দৃষ্টি ঘুরানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিতর্কিত ২৭তম সংবিধান সংশোধনীকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানো হতে পারে। এই সংশোধনী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করছে এবং সমালোচকদের মতে, এটি সামরিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করছে ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বিস্ফোরণের ব্যাপক ও তৎপর তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই হামলার সঙ্গে যুক্ত যে কেউ দায়ী হোক না কেন, তাকে অবশ্যই বিচার ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
