বিশ্বকাপ বাছাইয়ে শীর্ষে থেকে শেষ করা আর্জেন্টিনা এবারের ফিফা উইন্ডোতে প্রীতি ম্যাচ খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে। আজ তারা খেলবে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে। এটি প্রীতি ম্যাচ হলেও ‘বিশেষ ম্যাচ’ বলার কারণও আছে। প্রায় ৫০০ বছরের উপনিবেশিক শাসনের পর অ্যাঙ্গোলা ১৯৭৫ সালের ১১ নভেম্বর পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। সেই স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবেই আর্জেন্টিনাকে ফুটবল ম্যাচ খেলতে আমন্ত্রণ জানায় অ্যাঙ্গোলা। এই ম্যাচে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ১৭০ কোটি টাকা আলবিসেলেস্তেদের দিয়েছে আফ্রিকার দেশটি।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বুধবার অ্যাঙ্গোলাতে নানা ধরনের উৎসব শুরু হয়েছে। মূল অনুষ্ঠানে রাজধানী লুয়ান্ডার রিপাবলিক স্কয়ারে সৈন্যরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট জোয়াও লোরেনসো। অ্যাঙ্গোলা-আর্জেন্টিনা ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে দেশটির স্বাধীনতা দিবসের নামানুসারে নির্মিত ‘১১ নভেম্বর স্টেডিয়াম’-এ। আর্জেন্টিনা ফুটবলে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি আছেন স্কোয়াডে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে ম্যাচটি ঘিরে বাড়তি উন্মাদনা কাজ করছে পুরো অ্যাঙ্গোলা জুড়ে। টিকিট যে সব শেষ তা বোধ হয় অনুমেয়ই।
বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফিফা র্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান দুইয়ে। গেল অক্টোবরের ফিফা উইন্ডোতে দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। অ্যাঙ্গোলার র্যাংকিং ৮৯। গেল মাসে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ক্যামেরুন ও এসওয়াতিনির বিপক্ষে ড্র করে তারা। অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে ম্যাচে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে এর আগে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল আর্জেন্টিনা। সেটি ছিল ২০০৬ বিশ্বকাপের আগে মার্চের ফিফা উইন্ডোতে। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতেছিল ২-০-তে। বর্তমানে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি, অধিনায়ক লিওনেল মেসি। অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে ২০০৬ সালের সেই ম্যাচে স্কালোনি ও মেসি দুজনই স্কোয়াডে ছিলেন খেলোয়াড় হিসেবে। তবে ম্যাচে তারা বেঞ্চেই বসেছিলেন। মেসির তখন ক্যারিয়ারের সবে শুরুর দিক, জাতীয় দলে পরতেন ১৯ নম্বর জার্সি। আর স্কালোনির ২০০৩ সালে অভিষেক হয়েছিল জাতীয় দলে। এবার স্কালোনি অ্যাঙ্গোলার মুখোমুখি হচ্ছেন কোচ হিসেবে, আর মেসি আছেন তার ক্যারিয়ারের শেষ দিকে। অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে বিশেষ এই ম্যাচে মেসি মাঠে নামবেন, খেলবেন তা অনেকটাই নিশ্চিত।
ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়।
