হাটের ৫০ গজ দূরের বাজারে সবজির দাম দ্বিগুণ

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪৯ এএম

উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পাইকারি মোকাম বগুড়ার মহাস্থান হাট। সপ্তাহে দুদিন হাট হলেও শীতকালে প্রতিদিন এই হাটে সবজির বিপুল আমদানি হয়। জেলা সদর, শিবগঞ্জ, গাবতলী, সোনাতলার সবজি সবচেয়ে বেশি আসে এই হাটে। এ ছাড়া গাইবান্ধা ও জয়পুরহাটের সবজিও এই হাটে নিয়ে আসেন চাষিরা।

এই সবজির মোকামে গতকাল শুক্রবার সকালে ফুলকপি সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা কেজি দরে, পটোল ৪০, করলা ৫৫, শিম ৭৫, পেঁয়াজ ৯২, পাতাসহ পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এদিকে এই হাটের ৫০ গজেরও কম দূরে মহাস্থান বাজার। সেখানে গিয়ে চোখ কপালে ওঠার অবস্থা। এখানে পটোল ৬০ টাকা, ফুলকপি ৬০ থেকে ৭০, করলা ৮০, শিম ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে; যা পাইকারি মোকাম থেকে প্রায় দ্বিগুণ।

বগুড়ার মহাস্থান হাটে এখন সারা দেশ থেকে পাইকাররা আসছেন। তারা সবজি কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করছেন। গতকাল সকালে মহাস্থান হাটে কথা হয় কক্সবাজার থেকে আসা পাইকার আবদুল খালেক, নারায়ণগঞ্জের পাইকার নুরুল হক, ঢাকার কারওয়ান বাজারের পাইকার আব্দুল মজিদের সঙ্গে।

পাইকার আবদুল খালেক জানান, বগুড়ার সবজির মান ভালো। তাই কক্সবাজার নিয়ে ভালো দামে বিক্রি করতে পারেন। তিনি ফুলকপি, মুলা, শিম, করলা, লাউ নিয়ে যাবেন কক্সবাজার। পাইকার নুরুল হকও একই সবজি কিনেছেন নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

তবে সবজির দাম কম পাওয়ায় কৃষকরা কিছুটা মনোক্ষুণœ। শিবগঞ্জের অনন্তবালা গ্রামের কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, প্রথম দিকে ফূলকপি বিক্রি করেছেন প্রতি মণ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। তা এখন কমে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিবগঞ্জের উথলি গ্রামের কৃষক রফিকুল জানান, শুরুর দিকে শীতের সবজি শিম প্রতি মণ ৪ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হলেও এখন তা ৩ হাজার টাকার কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে শীতকালীন সবজি বাজারে এলেও স্বস্তি মেলেনি দামে। হাটের তুলনায় বাজারগুলোতে গত সপ্তাহের তুলনায় বেগুন, পটোলসহ অন্যান্য সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত। পেঁয়াজের ঝাঁজ যেমন কমছে না তেমনি মরিচের ঝালও বাড়ছে। এদিকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতারা নিয়মিত বাজার মনিটরিংসহ সরবরাহ বৃদ্ধির দাবি করেছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের সরবরাহ কম, সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমে আসবে।

সরেজমিন বগুড়ার বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, শীতকালীন সবজির মৌসুম শুরু হয়েছে প্রায় এক মাস আগে। আগাম শীতকালীন সবজিও বাজারে উঠেছে, তবে দাম ওঠানামা করছে প্রায় দিনই। বগুড়ার বাজারে প্রতি কেজি বেগুন প্রকারভেদে ৬০ থেকে ১৪০ টাকা, পটোল ৬০, ফুলকপি ৫০ থেকে ৭০, মুলা ৩০ থেকে ৪০, করলা ৮০, শিম ১০০ থেকে ১৬০, পেঁপে ৩০, ঝিঙে ৫০, মিষ্টি কুমড়া ৪০, পেঁয়াজ ১০০, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০, আলু ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল বগুড়া শহরের রাজাবাজারে আসা ক্রেতা বিমল চন্দ্র বলেন, ‘আমরা দিন আনি দিন খাই, দিনে ৫০০ টাকা রোজগার করে বাজারে এলে হতাশ হতে হয়। সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি, এভাবে দাম বাড়লে আমাদের কষ্ট বাড়বে।’ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত গোলাম কবির বলেন, ‘ছুটির দিনে বাজারে এলে মাথা ঘুরে যায়, সব জিনিসের দাম বেড়ে যায়।’

রাজাবাজার ব্যবসায়ী ও আড়তদার সমিতির উপদেষ্টা পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, শীত মৌসুম শুরু হলেও বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়েনি। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম। তবে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত