স্থানীয় এক নারীকে উত্ত্যক্ত ও মারধর করার অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে আসামিদের হামলায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে পরশুরাম উপজেলা পৌর এলাকার দক্ষিণ কোলাপাড়া গ্রামের গুনাগাজি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। হামলাকারী দুজন উপজেলা যুবদলের সদস্য বলে জানা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জনৈক শেফালী আক্তারকে উত্ত্যক্ত ও মারধর করায় কোলাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের দুই ছেলে ফয়সাল ও রাজিবের বিরুদ্ধে পরশুরাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরশুরাম থানার এসআই মুন্না গতকাল শুক্রবার সকালে দুই কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আবার উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়। এ সময় ফারুক হোসেন ও তার দুই ছেলে ফয়সাল ও রাজিব ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ুপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে পরশুরাম থানার এসআই মুন্না কনস্টেবল রুহুল আমিন এবং নাজমুল আহত হন।
স্থানীয় রেজাউল করিম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের ঘটনা শুনে মীমাংসার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ মীমাংসা করে দেয়। এ সময় এক পক্ষ পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা করে।
পরশুরাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুন্না বলেন, ‘শেফালী আক্তারকে উত্ত্যক্ত করায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের তদন্ত চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে আবার উত্তেজনা দেখা যায়। ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষে উভয় পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করে দিয়ে চলে আসার সময় ফারুক হোসেন ও তার দুই ছেলে রাজিব ও ইমাম হোসেন ফয়সাল ধারালো অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে অতর্কিত হামলা করে। এতে আমিসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।’
পরশুরাম থানার ওসি মো. নুরুল হাকিম বলেন, শেফালী আক্তার নামে এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ তাৎক্ষণিক মীমাংসা করে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আসার সময় ফারুক ও তার ছেলেদের হামলায় পুলিশের এসআইসহ ২ কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন।
