দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১৭০-এর বেশি। এর মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১১৬টি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন।
শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার চমৎকার পরিবেশ দরকার। সুদক্ষ শিক্ষকম-লী, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, বিজ্ঞানের বিষয়সহ গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্বমানের ল্যাবরেটরি, হাতে-কলমে শেখার সুযোগ ও ভবিষ্যতের কর্মস্থলে শিক্ষাজীবনেই যাওয়া-আসার সুযোগ যে প্রতিষ্ঠান দিতে পারে, সেখানকার পরিবেশ পড়াশোনার জন্য চমৎকার, এমনটা বলা যেতে পারে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেমন চলছে, তা বুঝতে দেশ রূপান্তর থেকে যোগাযোগ করা হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে। শিক্ষার্থীদের অনেকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একসময় নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও এখন বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান তা কাটিয়ে উঠতে বেশ সচেষ্ট।
অন্যদিকে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলছেন, মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি তাদের নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি ও ভবিষ্যতের নাগরিক গড়ার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস রহমান বলেন, শিক্ষক নিয়োগে শুধু নিয়োগপ্রত্যাশীর পরীক্ষার ভালো ফলের ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হয়, এমন নয়। তিনি বলেন, একজন অনার্স-মাস্টার্সে প্রথম হতে পারে বলে এই না যে, তাকেই নিতে হবে। রেজাল্টের পাশাপাশি তার শিক্ষকতার মনোভাব, আগ্রহের দিকগুলোও দেখা হয়।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আর কবির জানান, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা এবং প্রতিভাকে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। মেধার পাশাপাশি নিয়োগপ্রত্যাশী ব্যক্তির আচার আচরণ, ব্যবহার এবং সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষক-সুলভ কি না এসব বিষয়কেও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের মানদন্ড ১:৩০। এ বিশ্ববিদ্যালয় এটিকে ১:৪০-এ সীমাবদ্ধ রাখতে পেরেছে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার সুযোগ তৈরির ওপরও তারা গুরুত্ব দেন। এ ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য সময় ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে যৌথ গবেষণার সুযোগ তৈরি করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে।
শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনা শেষ করে স্বউদ্যোগে অথবা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নিতে পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ‘ইন্ডাস্ট্রি গ্র্যাজুয়েট’ হিসেবে গড়ে তোলায় মনোযোগী হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
এখন অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস হয়েছে। আগে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা না থাকলেও এখন কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ধীরে ধীরে বিভিন্ন সুবিধাসহ ছাত্রাবাস চালু করতে শুরু করেছে।
