মসলা, চা, আম ও বাদামসহ ভারতের বেশ কয়েকটি খাদ্যপণ্য থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রবিবার এ সংক্রান্ত একটি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, গোলমরিচ, লবঙ্গ, জিরা, এলাচ, হলুদ এবং আদা অব্যাহতি পেয়েছে শুল্ক থেকে। এ ছাড়া আসাম চা, দার্জিলিং চা-সহ ভারতের সব ধরনের চা আছে এ তালিকায়। তবে বাসমতি চাল, চিংড়ি এবং সামুদ্রিক মাছের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়নি। এ ছাড়া রতœ, অলঙ্কার, তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের ওপরও শুল্ক বলবৎ আছে।
চলতি বছর ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের শপথগ্রহণের প্রায় আড়াই মাসের মাথায় গত ২ এপ্রিল বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের ওপর বর্ধিত রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। ভারতের ওপর সে সময় ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। পরে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার অভিযোগে গত ৫ আগস্টে দেশটির ওপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। ফলে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ধার্যকৃত শুল্কের পরিমাণ পৌঁছায় ৫০ শতাংশে। ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিভিন্ন দেশের পণ্যের উপস্থিতি কমে যায়। ফলে খাদ্য ও কৃষিজসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এই অবস্থায় দেশ জুড়ে সমালোচনা শুরু হলে গত ১৪ নভেম্বর ২০০টি খাদ্যপণ্যকে শুল্ক থেকে অব্যাহতি প্রদানের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে ২০০ খাদ্যপণ্যকে শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যেই পড়েছে ভারতীয় এই খাদ্যপণ্যগুলো।
এদিকে, শুল্ক নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এক জ্বালানি চুক্তি সই করেছে ভারত। এই চুক্তির আওতায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার এই দেশটিতে ব্যবহৃত মোট তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) প্রায় ১০ শতাংশই সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল সোমবার বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, জ্বালানির উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করতেই ভারত এই উদ্যোগ নিয়েছে বলা হলেও, বাস্তবে রুশ তেল কেনা নিয়ে ট্রাম্পের অব্যাহত চাপের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় এই এলপিজি চুক্তি করল নয়াদিল্লি। ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তির অংশ হিসেবে রুশ তেল আমদানি কমাতে রাজি হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেয়নি নয়াদিল্লি। এ ছাড়া কৃষিপণ্য বাণিজ্য থেকে শুরু করে রুশ তেল কেনা বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দুই দেশ এখনো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হার্দিপ সিং পুরি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বছরে ২২ লাখ টন এলপিজি আমদানির জন্য এক বছরের চুক্তি করেছে ভারত। যা দেশের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ। পুরির ভাষায়, এটি ভারতীয় বাজারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম এলপিজি চুক্তি। তিনি বলেন, জনগণের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পথ খুলছে। এতে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অন্যতম বৃহৎ এলপিজি বাজার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত হলো।
