দলের প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্বস্তিতে নেই চট্টগ্রামের পাঁচটি সংসদীয় আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা। এসব আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা প্রতিদিনই কর্মসূচি পালন করছেন। কোথাও কোথাও সেই দাবি দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে। ফলে চূড়ান্ত মনোনয়নে এই প্রার্থীরা বহাল থাকবেন, নাকি নতুন মুখ আসবে তা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।
দলের দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে দ্রুত দল গোছানোর সুবিধার্থে প্রাথমিক মনোনয়নের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে যেসব আসনে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলো নিয়ে এখন গভীরভাবে কাজ চলছে। অসন্তোষ স্বতঃস্ফূর্ত, নাকি মনোনয়নবঞ্চিত কোনো প্রার্থীর ইন্ধনে হচ্ছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবকিছু বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের হাইকমান্ড।
গত ৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১০টিতে প্রাথমিক মনোনয়নের তালিকা ঘোষণা করেন। এর মধ্যে অন্তত পাঁচটি আসনেই প্রকাশ্য বিরোধিতা ও প্রতিবাদ চলছে। এসব আসন হলো চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড), চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান। গত জুলাইয়ে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। মাত্র তিন মাস পর অক্টোবরে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকেই মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলের বড় অংশ ক্ষুব্ধ। গত বুধবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর চিঠি দিয়েছেন মিরসরাইয়ের একাধিক সিনিয়র নেতা। চিঠিতে আসনটি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীর। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আজিম উল্লাহ বাহারের অনুসারীরা তার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে সরওয়ার আলমগীর নিরবিচ্ছিন্নভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে সবাই ধরেই নিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরী মনোনয়ন পাবেন। কিন্তু ৩ নভেম্বর উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাহউদ্দিনের নাম ঘোষণা হওয়ায় আসলাম অনুসারীরা টানা দুদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। আসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি দলীয় প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করবেন। অন্যদিকে সালাহউদ্দিনও নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি সরওয়ার জামাল নির্মল। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিনের অনুসারীরা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে পাল্টাপাল্টি মিছিল-সভা হয়েছে। তিন মনোনয়নবঞ্চিত নেতা তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে পরিবর্তন দাবি করেছেন। তবে দক্ষিণ জেলার সাবেক আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন, যুবদল সভাপতি শাহজাহানসহ প্রবীণ নেতাদের বড় অংশ সরওয়ার জামালের পক্ষে রয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মেশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। মনোনয়নবঞ্চিত নেতা লিয়াকত চেয়ারম্যান প্রকাশ্য সভা-সমাবেশ করে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, দলীয় মনোনয়ন না পেলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়তে পারেন। তবে অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা পাপ্পাকে সমর্থন দিচ্ছেন।
বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে বৈঠক করে ঐক্যের বার্তা দিয়েছি। বিএনপি বড় দল, প্রত্যাশীও অনেক। কিছু অসন্তোষ থাকতেই পারে। সার্বিক পরিস্থিতি হাইকমান্ডের নজরে আছে। চূড়ান্ত মনোনয়নের সিদ্ধান্ত যথাসময়ে জানানো হবে।’
