কিয়েভকে সময় বেঁধে দিলেন ট্রাম্প

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৫৩ এএম

দায়িত্ব গ্রহণের ১০ মাস পার হতে চললেও এখনো ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সম্প্রতি এই যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র নতুন একটি শান্তি

প্রস্তাব দিয়েছে। হোয়াইট হাউজ ইউক্রেনকে নতুন শান্তি প্রস্তাবে ‘থ্যাংকসগিভিং’-এর আগেই সম্মত হতে চাপ দিচ্ছে অন্যথায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ওয়াশিংটনের সমর্থন হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সচিব ড্যানিয়েল ড্রিসকল ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছে ২৮ দফা একটি প্রস্তাব দেন। এই পরিকল্পনাটি সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রুশ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভের সঙ্গে যৌথভাবে প্রস্তুত করেছেন। সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী এবং একাধিক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, এই পরিকল্পনায় ইউক্রেনের জন্য বেশ কিছু ‘রেড লাইন’ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর আকার বড় ধরনের কমিয়ে আনা এবং রাশিয়াকে এমন কিছু এলাকা ছেড়ে দেওয়া যেগুলো মস্কো সামরিকভাবে দখল করতে পারেনি।

জাতির উদ্দেশে ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে কিয়েভের সবচেয়ে বড় সমর্থক এখন এমন একটি চুক্তি করতে চাপ দিচ্ছে, যা রাশিয়ার অর্জনগুলোকে স্থায়ী করে দেবে। তিনি এটিকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন। জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে সম্মান হারাবে, নাকি গুরুত্বপূর্ণ এক মিত্রকে হারানোর ঝুঁকি নেবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কিয়েভ দ্রুত প্রস্তাবে সই না করলে সব ধরনের সহায়তা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও রয়েছে। যদিও বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সেনা সচিব ড্রিসকল তুলনামূলক নরম সুরে কথা বলেছেন। ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে ২৮ দফার যে পরিকল্পনা দিয়েছে, তাতে রাশিয়ার প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত ভূখণ্ড সমর্পণ, সেনাবাহিনী কমিয়ে আনা এবং ন্যাটো থেকে স্থায়ীভাবে বাদ পড়ার শর্ত রয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, এত বেশি চাপ যুক্তরাষ্ট্র আগে কোনো আলোচনায় ইউক্রেনের ওপর দেয়নি। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই চুক্তির কাঠামোতে সই চায় যুক্তরাষ্ট্র। জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল কিয়েভে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করে। ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও সেনাবাহিনীর জনসংযোগ প্রধান বৈঠকটিকে সফল হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ওয়াশিংটন চায় দ্রুততম সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেনের মধ্যে একটি নথি সই হোক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত