ভুটানের সঙ্গে নবযাত্রা

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪৮ এএম

ভুটান আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী এবং বিশ্বস্ত দেশ। আমরা ভুলিনি, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করে ভুটান। ভারতও একই দিনে স্বীকৃতি দেয়। তবে কিছুক্ষণ পর। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ ভুটানকে ১৮টি পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দিচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ১০টি পণ্য ভুটানে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাচ্ছে। আসলে এ দেশের সঙ্গে রয়েছে বাণিজ্যের মহাসুযোগ। ভূ-প্রাকৃতিকভাবে বন্দর সুবিধাবঞ্চিত স্থলভূমি, পাহাড়-পর্বত পরিবেষ্টিত দেশ ভুটান। দেশটি আমাদের চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য প্রসারে দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহী। ভুটান অভিমুখী ট্রানজিট বা ট্রান্সশিপমেন্টের পণ্যসামগ্রী হ্যান্ডলিং করে আমদানি ও রপ্তানি সামাল দেওয়ার উপযোগী পর্যাপ্ত অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা রয়েছে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের। উভয় সমুদ্রবন্দরকে কাজে লাগিয়ে আমাদের মাশুল আয়ের সুযোগ রয়েছে।

এবার বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে ভুটান। শনিবার (২২ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এ ট্রায়াল রান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের বাংলাদেশ সফরকালেই উদ্বোধন করা হলো। তিন দিনব্যাপী কার্যক্রমের আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১৫ টন পণ্যবাহী একটি চালান বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে ভারতের করিডর ব্যবহার করে ভুটানে পৌঁছাবে। প্রথম ট্রায়াল সফল হলে দ্বিতীয় ট্রায়াল চালানো হবে। দুটি ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হলে নিয়মিতভাবে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ভুটান বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ৬৮৪ কিলোমিটার ট্রানজিট করিডর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন করতে পারবে। এতে বাংলাদেশ-ভুটান বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফরে আছেন। সফরকালেই গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কার্যক্রম বাস্তবে রূপ নিল। অন্যদিকে স্বাস্থ্য সহযোগিতা ও ইন্টারনেট সংযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ এবং ভুটান দুটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার বিষয়ে প্রথম সমঝোতা স্মারক ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট অব হেলথ ওয়ার্কফোর্স’ স্বাক্ষরিত হয়েছে বাংলাদেশ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং ভুটানের রয়্যাল সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে। দ্বিতীয় সমঝোতা স্মারক ‘ট্রেড অব ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ অ্যান্ড আদার টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিসেস’ বাংলাদেশ সরকার ও ভুটান রয়্যাল সরকারের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে।  

জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ভুটানকে জিটুজি ভিত্তিতে ওষুধ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে, এই সহযোগিতা ভুটানে সাশ্রয়ী মূল্য এবং গুণগত মানের স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেবে। এর বাইরে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে নির্মাণসামগ্রী, ওষুধ, তৈরি পোশাক, সিরামিকস ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যসামগ্রী আমদানি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশি পর্যটকদের ভুটানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পর্যটকদের জন্য যেখানে ভুটান সরকার প্রতিরাত অবস্থানের জন্য সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফি (এসডিএফ) ১০০ ডলার নির্ধারণ করেছে, সেখানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটকদের জন্য তা মাত্র ১৫ ডলার। এ সময় তিনি এ সুযোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশিদের ভুটান ভ্রমণে আগ্রহী করতে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ট্রানজিট ব্যবস্থার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সংযোগ আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে নবযাত্রা সূচিত হলো আমরা আশা করি, উত্তরোত্তর তা আরও গতি পাবে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশ সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত