কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সমেশপুর গ্রামের শতাধিক কৃষক বহু বছর ধরে সবজির চারা উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
কৃষিনির্ভর এই গ্রাম এখন সারাদেশে পরিচিত পেয়েছে ‘চারা গ্রাম’ হিসেবে। তবে এবার এই ঐতিহ্যে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির নতুন মাত্রা। তরুণ উদ্যোক্তা হোসাইন রাব্বি মাটির বদলে নারিকেলের ছোবড়ার গুঁড়া বা কোকোপিটে চারা উৎপাদন করে বদলে দিয়েছেন স্থানীয় কৃষির চিত্র।
রাব্বি স্নাতক শেষ করে কাজের সূত্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন বিদেশে। কয়েক বছর পর দেশে ফিরে নতুন কিছু করার ভাবনা থেকেই অনলাইনে খুঁজে পান কোকোপিটে চারা উৎপাদনের পদ্ধতি। পরে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে শুরু করেন পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন। সেই পরীক্ষাই ফলাফল হলো সফল।
সমেশপুর গ্রামের চারাক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, পলিথিনে ঢাকা তাঁবুর ভেতরে মাচার ওপর সারিবদ্ধ ট্রেতে সাজানো কোকোপিট ভর্তি গর্তে সবজির চারা বেড়ে উঠছে। কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউ বিক্রির জন্য চারা তুলছেন। দেশের নানা স্থান থেকে আসা ক্রেতারা আগ্রহভরে এই নতুন পদ্ধতি দেখতে আসছেন। এ বিষয়ে ঢাকা থেকে আসা ক্রেতা খায়রুল বাশার টিপু বলেন, আমি ছাদবাগানের জন্য টমেটোর চারা কিনতে এসেছি। কোকোপিটে উৎপাদিত চারা রোগবালাই কম হয়, তাই আগ্রহী হয়েছি। রাব্বি বর্তমানে টমেটো, মরিচ, ক্যাপসিক্যামসহ বিভিন্ন সবজির প্রায় ৭০ হাজার চারা তৈরি করছেন, যা এক মাসের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। তিনি বলেন, মাটিতে চারা তৈরি করলে অনেক সময় নষ্ট হয়, আবার অনেক চারা মারা যায়। কোকোপিটে ঝুঁকি অনেক কম, কৃষকের লোকসানও কমে যায়। রাব্বির আশা, ভবিষ্যতে পলিনেট হাউজ স্থাপন করে বড় পরিসরে উৎপাদনে যেতে পারবেন। একই গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘৪৫ বছর ধরে মাটিতে চারা লাগিয়েছি। অনেক সময় জলাবদ্ধতা আর রোগে চারা নষ্ট হতো। এখন ট্রেতে কোকোপিটে চারা করলে এসব সমস্যা নেই।’ এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার বলেন, সমেশপুর এলাকায় জলাবদ্ধতা বেড়ে যাওয়ায় মাটিতে চারা উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই কৃষকরা কোকোপিট প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন। এতে মাটিবাহিত রোগ হয় না, চারা নষ্টও হয় না। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কোকোপিটে চারা উৎপাদনের এই নতুন পদ্ধতি এখন শুধু সমেশপুর নয়, বুড়িচং জুড়েই ছড়িয়ে পড়ছে। তরুণ উদ্যোক্তা হোসাইন রাব্বির হাত ধরেই বদলে যাচ্ছে গ্রামের কৃষি আর কৃষকের ভাগ্য।
