খেলনা-বাসনপত্রের রঙে সিসার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের আহ্বান

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৪৪ পিএম

শিল্পে, খেলনায়, রান্নার বাসনপত্রে যে রঙ ব্যবহার হচ্ছে, তাতে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে সিসার দূষণ হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দূষণ ঠেকাতে একদিকে ব্যবহৃত রঙের হালনাগাদ বাংলাদেশ মান (বিডিএস) বাস্তবায়নের পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আয়োজিত এক নীতিনির্ধারণী সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। ‘সিসার বিষক্রিয়া প্রতিরোধ এবং শিল্পে ব্যবহৃত রঙ, রান্নার বাসনপত্র ও খেলনার মানদ- হালনাগাদকর’ শীর্ষক এ সভাটি হয়। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), ইউনিসেফ এবং এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) যৌথভাবে আয়োজন করে। এই পলিসি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব এবং এসডোর চেয়ারপারসন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক এসএম ফেরদৌস আলম।

সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, ‘সিসা একটি নীরব ঘাতক, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে, বিশেষ করে শিশুদের মেধা ও স্নায়ুতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে সিসার প্রভাব কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এই ক্ষতিকর ধাতব উপাদান থেকে রক্ষা পেতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডেকোরেটিভ রঙের ক্ষেত্রে আমরা সফলতা পেয়েছি, কিন্তু শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত রঙ এবং নিত্যব্যবহার্য পণ্য যেমন বাসনপত্র ও খেলনায় সিসার ব্যবহার বন্ধে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই নীতি-সংলাপ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এক ছাতার নিচে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক এসএম ফেরদৌস আলম বলেন, ‘বিএসটিআই ইতিমধ্যে ডেকোরেটিভ পেইন্টে সিসার মাত্রা ৯০ পিপিএম নির্ধারণ করে দক্ষিণ এশিয়ায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিল্প, মেরিন এবং অটোমোবাইল পেইন্টের বাংলাদেশ মান (বিডিএস) প্রণয়ন করা হচ্ছে। আজকের আলোচনার সুপারিশমালা আমাদের বাংলাদেশ মান হালনাগাদ ও তা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. সামসুদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরজু মিয়া। আইইডিসিআরের পরিচালক প্রফেসর ড. তাহমিনা শিরিন, এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা, ইউনিসেফের স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ড. প্রিসিলা ওবিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত