'শার্ট-প্যান্ট খোল', বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:৩২ পিএম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরূদ্ধে ঐ বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থীকে র‌্যাগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর ও বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর তিনটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আল শাহারিয়ার মোহাম্মদ মুস্তাকিম মজুমদার। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- নাফিজ ফারদিন আকন্দ স্বপ্নীল, মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন, ইমন মাহমুদ, নেহাল আহমেদ ও মিরাজ। তারা একই বিভাগের ১০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

অভিযোগপত্রে লেখা হয়েছে, গত বুধবার রাতে আমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়রদের নির্দেশে রূপাতলী হাউজিং মাঠে উপস্থিত হই। সেখানে আমরা ২৮ জন উপস্থিত ছিলাম। পরে তারা আমাদের রাত সাড়ে নয়টার বাসে টোল প্লাজার কাছে ইমিডিয়েট সিনিয়র নেহাল ভাইয়ের বাসায় নিয়ে যান। বাসায় প্রবেশের পর আমাদের তিনতলা কক্ষে উঠিয়ে গেট আটকে দেন। এরপর আমাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ সকল ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে নেওয়া হয়। যাতে আমরা কোনও প্রমাণ রাখতে না পারি। তারপর আমাদের এক ব্যাচমেটকে ইন্ট্রো দেওয়ার জন্য বলেন, তখন রাত প্রায় সাড়ে দশটা বেজে যায়। আমি এক সিনিয়র ভাইকে বলি- 'ভাই ১১টায় তো আমাদের বাসার গেট বন্ধ করে দেয়'।

'এটা শোনার পর নেহাল ভাই আমাকে দাঁড় করিয়ে শামীম ভাই আর স্বপ্নীল ভাইয়ের হাতে তুলে দেন র‌্যাগ দেওয়ার জন্য। তিনি তখন আমাকে জঘন্য ভাষায় কবিতা আবৃত্তি করতে দেন। আমি না বললে আমাকে বলেন- যদি তুই আবৃত্তি না করিস তাহলে তুই মেন্টাল, তোর মাথায় সমস্যা, আমার বাবা মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এগুলো শুনে আমার কান্না চলে আসে। তখন শামীম ভাই বলেন- 'তুই সিম্প্যাথি পাওয়ার জন্য কান্না করতেছোস। তাই তুই ফ্লোরে বসে ১০ মিনিট কান্না করবি এখন।' তারপর আমাকে তারা কবিতার এক্সপ্রেশন করার কথা বলেন, যেখানে আমাকে মেয়ে আর আমার দুজন সহপাঠীকে ছেলে ক্যারেক্টার বানায়, আমাদের ফিজিক্যাল রিলেশনের অভিনয় করতে বলেন। এটা আমি নিতে পারছিলাম না। তাই আমি বের হয়ে আসার চিন্তা করি। শামীম ভাই তখন লাঠি নিয়ে আসেন আমাকে মারতে। নেহাল ভাই বলেন, তুই যদি এ রুমের বাহিরে যাস তাহলে তোরে পা দিয়ে পিষে মেরে ফেলব।'

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, স্বপ্নীল ভাই আমাকে এক পায়ে দাঁড়াতে বলেন। মিরাজ ভাই আর ইমন ভাই আমাকে ওয়ান কোয়ার্টার প্যান্ট দিয়ে বলেন, 'এটা পরে নাচ'। আমি তখন বলি ওয়াশরুমে যাব। তারা আমাকে একটি বোতল দিয়ে বলেন- 'সবার সামনে রুমের মধ্যেই প্রশ্রাব কর'। বহু কষ্টে আমি যখন ওয়াশরুমে যাই তখন সপ্নীল ভাই বলেন- 'দরজা খোলা রেখে প্রশ্রাব কর'। ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার পর স্বপ্নীল আর ইমন ভাই বলেন- 'শার্ট আর প্যান্ট খোল, তারপর মাস্টারবেশন কর'। আমাকে তারা শীতের রাতে শেষ পর্যন্ত শার্ট খুলতে বাধ্য করে। এরপর স্বপ্নীল ভাই আমাকে একটা বিস্কিট দিয়ে বলেন- 'কুকুরের মতো চেটে চেটে খা'।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা জুনিয়রদের নিয়ে পিকনিক করছিলাম। ঐখানে একটু রাগারাগি হইছে। র‌্যাগিং দেওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত