দেশের অন্যতম গ্রন্থাগারগুলোর একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) খাদেমুল হারামাইন বাদশাহ ফাহাদ-বিন-আব্দুল আজিজ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। লক্ষাধিক বইসমৃদ্ধ গ্রন্থাগারটিতে বিভিন্ন ভাষার ৩০ হাজারের অধিক পা-ুলিপি এবং মাইক্রোফিল্ম, মাইক্রোফিচ ও সিডি রয়েছে। এক বছর আগেও বিশাল সংগ্রহের গ্রন্থাগারটিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা যেত খুবই নগণ্য। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য জব কর্নার পাল্টে দিয়েছে চিত্র। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এখন চোখে পড়ার মতো, যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রন্থাগারটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালের আগস্টে উদ্বোধন করা হয় খাদেমুল হারামাইন বাদশাহ ফাহাদ-বিন-আব্দুল আজিজ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি। তিন তলাবিশিষ্ট গ্রন্থাগারটি দেশের বৃহত্তম গ্রন্থাগারগুলোর মধ্যে অন্যতম। এতে সাময়িকীর বাঁধাই করা খ-সহ ১ লাখ ৩ হাজার ৪০৮টিরও বেশি বই রয়েছে। এখানে বিভিন্ন ভাষার ৩০ হাজারের অধিক পা-ুলিপি এবং মাইক্রোফিল্ম, মাইক্রোফিচ ও সিডি রয়েছে। এ ছাড়া এটি প্রায় ২০ হাজারের অধিক বিদেশি সাময়িকীর গ্রাহক।
দীর্ঘদিন থেকে নিজস্ব বই পড়ার জন্য নির্দিষ্ট স্থানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ৫ আগস্টের পর গ্রন্থাগারের নিচতলার ‘একুশে কর্নার, বঙ্গবন্ধু কর্নার ও মুক্তিযোদ্ধা কর্নার’ থেকে জব কর্নারে স্থানান্তর করা হয়। তবে জব কর্নার চালু হলেও শুরুতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও আসন সংকটে তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি শিক্ষার্থীদের। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আসন বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় লাইটিং, ফ্যান, পর্দা ও ওয়াশরুম স্থাপনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয় জব কর্নারটির। বর্তমানে জব কর্নারটিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। কর্নারটিতে প্রায় ৬০ জনের অধিক শিক্ষার্থীর বসার ব্যবস্থা রয়েছে। শুক্রবার ব্যতীত সপ্তাহে ৬ দিনই সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে জব কর্নারটি।
নিয়মিত জব কর্নারে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিংকু বলেন, ‘পূর্বে লাইব্রেরিতে নিজস্ব বই নিয়ে পড়ার সুযোগ ছিল না। ফলে শিক্ষার্থীরাও তেমন আসত না। কিন্তু জব কর্নার চালু করার পর থেকে শিক্ষার্থীদের বড় অংশ এখন পড়তে আসে। অনেক সময় বসার জায়গাও পাওয়া যায় না। আরও আসন বাড়ালে আমাদের জন্য ভালো হয়।’
কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারী রেজিস্ট্রার মাহামুদ হাসান বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের নিজস্ব বই পড়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গার দাবি ছিল। এরই প্রেক্ষিতে ৫ আগস্টের পর জব কর্নার চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে জব কর্নারটি পুরোপুরি চালু হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। আগে লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীরা কম আসলেও জব কর্নার চালুর পর থেকে বেশি আসে। তবে জনবল কম থাকায় আমাদের কাজগুলো কঠিন হয়ে যায়। বিশেষ করে গ্রন্থাগারে কর্মচারী নেই বললেই চলে। সপ্তাহে ৬দিন গ্রন্থাগার খোলা রাখা হয় কিন্তু দেখভালের জন্য কর্মচারী পাওয়া খুব কঠিন হয়ে যায়।’
গ্রন্থাগারিক (ভারপ্রাপ্ত) খোন্দকার আব্দুল মজিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনায় জব কর্নার চালু করা হয়েছে। আগে লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও জব কর্নার চালুর পর তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইতিমধ্যেই জব কর্নারে প্রয়োজনীয় লাইটিং, ফ্যান, পর্দা ও ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী স্থাপন করা হয়েছে। খুব দ্রুতই নিরবিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ও ডোর ক্লোজারের ব্যবস্থা করা হবে। উপাচার্য এ বিষয়ে খুবই আন্তরিক এবং সবরকম সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। প্রয়োজন বিবেচনায় ধীরে ধীরে সুযোগ সুবিধাগুলো আরও বাড়ানো হবে।’
