চবিতে বাংলা মদ তৈরির গোপন আস্তানার সন্ধান

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৩০ পিএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদ সংলগ্ন গ্রিনহাউস এলাকার পাশে একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে বাংলা মদ তৈরির গোপন আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসময় বিপুল পরিমাণ বাংলা মদ ও বন্য প্রাণী শিকারের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় দুই জনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার রাত সাড়ে বারোটায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি জীববিজ্ঞান অনুষদ সংলগ্ন গ্রিনহাউস এলাকার ব্রিজের উত্তর পাশে একটি ঘরে অভিযান চালায়। এতে নেতৃত্ব দেন প্রক্টর ড. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন। অভিযানে প্রায় ৪০ লিটার বাংলা মদ জব্দ করা হয় এবং মদ প্রস্তুতকারী সুমন চাকমা ও তার সঙ্গে থাকা এক নারীকে আটক করে কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, সুমন চাকমা প্রায় ১৫ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লিজ নেওয়া বখতিয়ার ফকিরস্থ জমিতে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছিলেন। একটি ছোট্ট টিনঘরে থাকা এই ব্যক্তি গোয়ালঘরের পেছনের লম্বা বারান্দা জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে মদ তৈরি করতেন। তল্লাশিতে ঘরের পেছনে গড়ে তোলা মদের কারখানা থেকে প্রায় ৩০ লিটার সদ্য প্রস্তুত গরম মদ উদ্ধার করা হয়। এসময় ৫ লিটার ডেক্সি, ডেলিভারি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বোতলসহ মদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। মদ বিক্রির হিসাব সংবলিত নোটবুকও জব্দ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সুমন চাকমা কেবল বাংলা মদের ব্যবসায় করেন না, তিনি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জঙ্গল থেকে বন্য শুকর, হরিণ, বন মোরগসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী শিকার করতেন। তিনি গোপনে এসব প্রাণীর মাংস বিক্রি করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীও নিয়মিত তার কাছ থেকে মদ কিনত বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। নিয়মিত ওই এলাকায় যাতায়াতকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন।

জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, জীববিজ্ঞান অনুষদ সংলগ্ন এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা ও কয়েকজন শিক্ষার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সন্দেহে ফেলে। গোপনে নজরদারি করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার রাত সাড়ে বারোটায় প্রক্টর, নিরাপত্তা সুপারভাইজার নুরুদ্দীন-মহিউদ্দিনসহ ৭-৮ সদস্যের একটি দল বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এসময় সুমন চাকমা ও তাঁর সঙ্গে থাকা নারীকে আটক করা হয়। তবে ওই নারী তার স্ত্রী নয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন।

অভিযানের সময় বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহায়তা করেন। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, বন্যপ্রাণী হত্যা এবং অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লিজকৃত জমিতে অবৈধভাবে মদের ব্যবসা চালানোর ঘটনায় জমির লিজ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন। এছাড়া অনুমতিহীনভাবে গাছ কাটার অভিযোগে লিজগ্রহীতা ব্যক্তিকে আর্থিক জরিমানা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত