কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন শিক্ষকদের

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:১৮ এএম

তিন দফা দাবি আদায়ে সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (সপ্রাবি) সহকারী শিক্ষকরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার শিক্ষকরা জেলা ও থানা শিক্ষা অফিস কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচির কারণে বিদ্যালয়ে চলমান বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। স্কুলের পরীক্ষা নিতে দেখা গেছে দপ্তরি, পিয়ন, অভিভাবকদের। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

এদিকে শিক্ষকদের আন্দোলনের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষকদের কাজে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে চলমান বার্ষিক পরীক্ষায় নেওয়ার ক্ষেত্রে কেউ বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের এ কঠোর সতর্কতা যারা অমান্য করবে, তাদের বিরদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রম, আচরণ বিধিমালা ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ফরিদপুরের বোয়ালমারীর অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা সারা দেশের ন্যায় তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন। এ কারণে বিদ্যালয়ে চলমান বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা গ্রহণ করছেন প্রধান শিক্ষক, দপ্তরি, পিয়ন এবং অভিভাবকরা। এ নিয়ে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

পৌর সদরে অবস্থিত বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান বার্ষিক পরীক্ষার হলে গত মঙ্গলবার দায়িত্ব পালন করেছেন অভিভাবকরা। গতকাল বুধবার সকালে পৌর সদরের বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, পরীক্ষার হলে অভিভাবকরা পরীক্ষা গ্রহণের দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলার অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়েই একই চিত্র।

বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক শ্রাবণী সাহা বলেন, সহকারী শিক্ষকরা দাবি আদায়ের জন্য কর্মবিরতি পালন করেছেন। তবে পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষার হলে অভিভাবকরা দায়িত্ব পালন করেছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী সুমন খান বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তায় ফেলে শিক্ষকদের এ আন্দোলন সমর্থনযোগ্য নয়। শিক্ষকদের দাবি থাকতেই পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের আন্দোলন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোহিনূর আক্তার বলেন, আমি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা নিচ্ছি। দপ্তরি আর অভিভাবকদের সহায়তায় আমি পরীক্ষা নিচ্ছি।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক অ্যাডহক কমিটির সদস্য, হাই স্কুলের প্রতিনিধি ও অভিভাবক সদস্য নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। আমি গতকাল ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভিজিট করেছি। পরীক্ষা গ্রহণে কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি।

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কুমিল্লার মুরাদনগরেও তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (সপ্রাবি) সহকারী শিক্ষকরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল বেলা ১১টায় উপজেলার সব স্কুলে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষকরা ঘোষণা দেন, তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত এ শাটডাউন কর্মসূচি চলবে।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শিক্ষকরা জানান, ২০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সব শিক্ষকই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে যখনই গড়িমসি দেখা যায়, তখনই তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন চলবে।

নান্দাইলে পরীক্ষা হয়নি ১০৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে : নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, উপজেলায় মোট ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৭৫টি স্কুলে গতকালের পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে আর ১০৩টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকলেও পরীক্ষা হয়নি। এ নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে সময়মতো প্রশ্নপত্র সরবরাহ না হওয়া, শিক্ষক সংকট এবং চলমান শিক্ষক কর্মবিরতির কারণে পরীক্ষার এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে উপস্থিত থাকলেও প্রশ্নপত্র ও কর্মরত শিক্ষকরা উপস্থিত না থাকায় পরীক্ষা নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় কিছু বিদ্যালয় পরীক্ষা নিলেও অধিকাংশ স্কুলে পরীক্ষা স্থগিত থাকে।

অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষা অফিসের অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষক সংকটের কারণে সন্তানদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা আরও বলেন, বার্ষিক পরীক্ষা না হলে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কীভাবে হবে! সেটি নিয়ে তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও উদ্বিগ্ন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে নানান দাবিদাওয়া না মেটায় শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। এ কারণে পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত জানান, সরকারি নির্দেশনা না মানা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরকারের পরবর্তী নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামনের পরীক্ষাগুলো যাতে ভালোভাবে নেওয়া যায়, সেজন্য মাদ্রাসা শিক্ষকসহ স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতা নেওয়া হবে।

শিক্ষকদের হুঁশিয়ারি মন্ত্রণালয়ের : গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠন গত ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতি এবং আজ (গতকাল বুধবার) থেকে ঘোষিত কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির বিষয়ে অবগত রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। দাবি পূরণে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন প্রদানের দাবিসহ ১০ ও ১৬ বছর চাকরি সমাপনান্তে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য হতে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির বিষয়ে ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। গণশিক্ষা উপদেষ্টা অর্থ উপদেষ্টা এবং বেতন কমিশনের সভাপতির সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন।

এর আগে গত ৭ আগস্ট সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেড হতে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করতে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-কে অনুরোধ জানিয়েও চিঠি দেন উপদেষ্টা। নভেম্বরের ১০ তারিখে অর্থ বিভাগের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জানানো হয়, পে-কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই অর্থ বিভাগ বেতন স্কেল উন্নীতকরণের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এত উদ্যোগ গ্রহণের পরও দেখা যাচ্ছে, সহকারী শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠন চলমান বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ না করে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা গ্রহণে বাধাবিঘœ সৃষ্টি করেছে। এমনকি কোথাও কোথাও পরীক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষকদের ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে।

মন্ত্রণালয় এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত কর্মসূচিকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া এবং সরকারি চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী ও ফৌজদারি আইনে বিবেচ্য বলে উল্লেখ করেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের অবিলম্বে কাজে যোগদান করে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঈশ্বরগঞ্জের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাইকিং করে বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ : ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শিক্ষকদের ঘোষিত কর্মবিরতি, বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন এবং কমপ্লিট শাটডাউন উপেক্ষা করে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বড়জোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাইকিং করে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল অভিভাবক ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় এ বার্ষিক পরীক্ষার কার্যক্রম হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতিসহ তিন দফা দাবিতে গত ২৭ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। গত মঙ্গলবার প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক গণিত ও সমন্বিত বিজ্ঞান পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সহকারী শিক্ষকরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষনণা করে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করেন। এতে উপজেলার কিছু কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের অসহযোগিতার কারণে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

এদিকে উপজেলা প্রশাসন পরীক্ষার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। মঙ্গলবার রাত ৮টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমদের নেতৃত্বে সব প্রধান শিক্ষককে নিয়ে জুম মিটিং হয়। মিটিংয়ে বুধবার নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রধান শিক্ষকদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবুও উপজেলার কিছু বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের অসহযোগিতার কারণে পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

অভিভাবক মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলে জিম্মি করে দাবি আদায় করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা এ ধরনের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমদ বলেন, প্রশাসনিক কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে উপজেলার ১৪০টির মধ্যে ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা হয়নি, সেসব বিদ্যালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী যথারীতি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত বা বর্জনের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। যদি সহকারী শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা না নেন, তাহলে প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় শিক্ষিত সচেতন মানুষের সহযোগিতায় হলেও পরীক্ষা নিতে হবে।

অভিভাবকদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা : ফেনী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেই ফেনীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলছে বার্ষিক পরীক্ষা। তবে হলে শিক্ষক নয়, অভিভাবকদের উপস্থিতিতেই পরীক্ষায় অংশ নিতে দেখা গেছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফেনীর বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সহকারী শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে বসে কর্মসূচি পালন করছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার হলে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র বিতরণ করছেন। আর শিক্ষার্থীরা যে যার মতো করে পরীক্ষা দিচ্ছে। আবার কোনো কোনো হলে পরীক্ষায় নিতে সহযোগিতা করছেন অভিভাবকরা। পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন বুঝতে সমস্যা হলেও হলে শিক্ষক না থাকায় যে যার মতো করে খাতায় উত্তর লিখছে।

শিক্ষকরা বলছেন, তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকা এবং তিন শিক্ষক নেতাকে শোকজ নোটিস জারি করার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। ফেনীর ৫৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ হাজার ৪৫ জন সহকারী শিক্ষক এ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দীন আহাম্মদ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকরা পরীক্ষা নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক ও অফিস সহকারীরা সহযোগিতা করছেন। আশা করি এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা বিশৃঙ্খলা করছেন, অভিযোগ এলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের নেতারা তিন দফা দাবি আদায়ে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা ও থানা শিক্ষা অফিস কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়ার কথাও জানান তারা।

শিক্ষক নেতারা জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে ২২ দিন অতিবাহিত হলেও, অদ্যাবধি দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বানে বুধবার থেকে সারা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা তালাবদ্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের তিন দফা দাবি হলো সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতার অবসান, সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।

দাবি আদায়ে গত ৮-১১ নভেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। এ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের হামলায় দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন। এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে শিক্ষকরা ক্লাসে ফেরেন। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি না থাকায় ২৭ নভেম্বর থেকে ফের কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। এরপর ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত