কালভার্টের ওপর বাঁশের পাটাতন বিছিয়ে চলাচল

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৪৩ এএম

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার একটি কালভার্টের সø্যাব ভেঙে যাওয়ায় বাঁশের পাটাতনের ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন ও পথচারীরা। এত ভোগান্তিতে পড়েছে ওই পথে চলাচল করা স্থানীয় লোকজন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কালভার্টটি অনেক আগে নির্মাণ করা হয়। বিভিন্ন সময়ে পাটাতনের রড ও সিমেন্টের তৈরি সø্যাবের একটি অংশ ভেঙে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বড় আলমপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খস্টি পাইকাপাড়া গ্রামের আখিরা নদীর শিরনীকাটার জান থেকে চৌকির ঘাট নালার ওপর নির্মিত সংযোগ কালভার্টের বেহাল অবস্থা। কালভার্টের পাটাতনের সø্যাবগুলো কয়েক বছর আগে ভেঙে গেছে। স্থানীয়রা কালভার্টের বিমের ওপর বাঁশ দিয়ে পাটাতন বানিয়েছেন। এই পাটাতনের ওপর ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে কয়েক গ্রামের অন্তত ৮-১০ হাজার মানুষ। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী স্কুলে যাওয়ার জন্য ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় খস্টি পাইকাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহিন মিয়া বলেন, কালভার্টটি ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে নির্মাণ হয়। গ্রামীণ রাস্তায় নির্মিত সেতু ভেঙে যাওয়ায় এই পথে স্থানীয় বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য স্থানীয় কৃষকদের পণ্য বাজারজাতকরণে অনেক পথ ঘুরতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মহাদেব চন্দ্র বলেন, ‘এই কালভার্ট আমাদের এলাকার মানুষের প্রধান ভরসা ছিল। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

বড় আলমপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহিন মিয়া বলেন, ‘ওই ব্রিজটা হলে আমাদের অনেক উপকার হবে। আমার ওয়ার্ডের মানুষ অনেক কষ্ট করে যাওয়া আসা করে। তাই আমি ওই ব্রিজটি করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

বড় আলমপুর ইউনিয়নের ইউপি প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি ভেঙে যাওয়া ব্রিজটি দুবার পরিদর্শন করেছি। ভেঙে যাওয়া ওই ব্রিজটি মেরামত ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট থেকে সম্ভব নয়। আমি বিআরডিসি ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করছি ব্রিজটি হওয়ার জন্য।’

পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বাপ্পি বলেন, ‘ওই কালভার্ট দুইবার দেখেছি। ওটা আমাদের কোনো ডিপিডিতে অন্তর্ভুক্ত নেই। আমি ওটাকে দুটি প্রকল্পে ডিপিডিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত