চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেছেন। গতকাল শুক্রবার চীনের সিচুয়ান প্রদেশের ছেংতু শহরের তু চিয়াং ইয়ানে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তু চিয়াং ইয়ান জলসেচ প্রকল্প পরিদর্শন করেন মাখোঁ। তিনি বলেন, দুই হাজার বছরেরও বেশি আগে নির্মিত জলসেচ প্রকল্পটি এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা চীনা জনগণের প্রজ্ঞা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসার দাবি রাখে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, চীন ও ফ্রান্সের সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং দুই দেশের সহযোগিতা উভয় দেশের জনগণের জন্য কল্যাণ সৃষ্টি করবে।
মতবিনিময়ের সময় শি জিনপিং বলেন, চীন ও ফ্রান্সের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা শুধু দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ‘করমর্দন’ নয়, বরং এটি দুটি মহান সভ্যতার সংমিশ্রণ। তিনি মনে করেন, চীন ও ফ্রান্স সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে যৌথভাবে বিশ্বের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মানবজাতির উন্নয়নে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে। দুই রাষ্ট্রপ্রধানই ঘনিষ্ঠ আদান-প্রদান ও যোগাযোগ বজায় রাখতে এবং যৌথভাবে চীন-ফ্রান্স সার্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন। পরে শুক্রবার বিকেলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ চীনের ছেংতু শহরে অবস্থিত সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয় ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বের সম্পর্ক স্থাপন ও সম্প্রসারণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে সায়েন্সেস পো, প্যারিস ন্যান্টেরে বিশ্ববিদ্যালয়, তুলুস বিশ্ববিদ্যালয় এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজেস অ্যান্ড সিভিলাইজেশনসসহ প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠান। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রায় ২০টি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চীনের পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ছেংতু, যা দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক শহর এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। ১৯৮১ সালে ছেংতু ও ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ার দুই দেশের মধ্যে প্রথম মৈত্রী শহর (সিস্টার সিটি) সম্পর্ক স্থাপন করে।
