৭ বছরের শিশু অপহরণ মামলার আসামি, আদালত ঘিরে চাঞ্চল্য

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৯ পিএম

চট্টগ্রামে সাত বছরের এক শিশুর বিরুদ্ধে চার বছরের আরেক শিশুকে অপহরণের অভিযোগে থানা পুলিশ মামলা নেওয়ার ঘটনায় আদালত পাড়ায় তোলপাড় চলছে। শুধু তাই নয়, সাত বছরের ওই শিশুকে আইনের আওতায় এনে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠিয়েছে পুলিশ। অথচ শিশু আইন অনুযায়ী, ৯ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু আসামি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানা এলাকায়। 

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল নগরের ষোলশহর এলাকায় বসবাসরত আনোয়ারা বেগম তার বড় সন্তানকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সঙ্গে নিয়ে যান চার বছরের ছোট সন্তান মো. রামিমকেও। এক পর্যায়ে রামিম সেখান থেকে  হারিয়ে যায়। এই ঘটনায় নগরের পাঁচলাইশ থানায় জিডি করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ঘটনার ৭ মাস পর গত শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর)  পাঁচলাইশ থানায় অপহরণ মামলা করেন তার মা আনোয়ারা বেগম। মামলায় আসামি করা হয় ৭ বছরের ওই শিশু ও তার ৩০ বছর বয়সী মাকে। ওইদিনই পাঁচলাইশ থানার এসআই এনামুল হক ষোলশহর এলাকা থেকে সাত বছরের শিশু ও তার মাকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবারই তাদের হাজির করা হলে শিশুটিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) এবং তার মাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

এই প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৭ এর পিপি শফিউল মোরশেদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘শিশু আইন ও দণ্ডবিধিতে ৯ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া, গ্রেপ্তার কিংবা আটকের সুযোগ নেই। আদালতের আদেশের নথি, মামলা এজাহারে বাদী শিশুটির বয়স সাত উল্লেখ করেছেন।’

এদিকে সাত বছরের শিশুর বিরুদ্ধে থানায় মামলা গ্রহণ ও আইনের সংস্পর্শে নেওয়ার বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অমিতাভ দত্তকে প্রশ্ন তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এদিকে গত শুক্রবার শিশুটিকে আদালতে নেয়া হলেও এজলাসে হাজির করা হয়নি।

এই প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি মফিজুল হক ভূঁইয়া দেশ রুপান্তরকে বলেন,  ‘সাত বছরের শিশুকে চার বছরের আরেক শিশুকে অপহরণের অভিযোগে করা মামলায় আইনের সংস্পর্শে আনার বিষয়টি জানার পর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রবিবার (৭ ডিসেম্বর)  আদালতে শিশুটির জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করেন। শিশুটির বাবা বলেন, ‘সাত মাস আগের ঘটনায় আমার স্ত্রী ও সাত বছরের শিশুকে কেন আসামি করেছে, বুঝতেছি না।’ 

এই প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ আজ রাতে দেশ রুপান্তরকে বলেন, ‘সাত বছরের শিশুকে অপহরণ আসামি করার বিষয়টি যাচাই বাছাই হচ্ছে। এরপর এখানে আইনের কোন বত্যয় ঘটলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত