মেসি রোনালদোর জন্যই বিশ্বকাপ রোমাঞ্চকর

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৩১ এএম

সম্প্রতি জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপিং। প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ। স্বভাবতই গ্রুপ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২টি। ৪৮ থেকে দ্বিতীয় পর্বে যাবে ৩২টি দল। ফিফা ড্র অনুষ্ঠান যে ছকে ফেলে করেছে, তাতে ফেভারিটদের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দেখা হওয়ার সুযোগ খুব একটা নেই। তাই আপাতদৃষ্টে মনে হতে পারে, একটু আয়েশেই বিশ্বকাপ শুরু করতে পারবে সেরা দলগুলো। তবে গত বিশ্বকাপে স্মৃতি রোমন্থনে আয়েশি হওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই ফেভারিটদের। বাংলাদেশের সাবেক তিন তারকা এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন। আব্দুল গাফফারের চোখে তিন দেশে হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপ নিয়েও ফুটবলভক্তদের উন্মাদনা থাকবে আকাশছোঁয়া। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম মনে করেন, এ বিশ্বকাপের আসল রোমাঞ্চের জন্য দ্বিতীয় পর্ব পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি এ বিশ্বকাপের ফেভারিটের তালিকায় রাখছেন স্পেনকে। এ ছাড়া লাতিন দলগুলোর সুযোগও দেখছেন তিনি। বাংলাদেশের জার্সিতে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলের মালিক জাহিদ হাসান এমিলি এ বিশ্বকাপে প্রথম অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর খেলা দেখতে মুখিয়ে আছেন। বিশেষ করে এশিয়া থেকে উজবেকিস্তান ও জর্ডান কেমন করে সেটা দেখতে চান তিনি। বিশ্বকাপের দলসংখ্যা বাড়ায় উন্নয়নশীল ফুটবল দেশগুলোর সম্ভাবনা বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জিতে চক্রপূরণ হয়েছে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির। সর্বকালের সেরা ফুটবলারের তকমা এখন অনায়াসেই তাকে দিয়ে দেওয়া যায়। লিওনেল স্কালোনির এবারের আর্জেন্টিনাও শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে যাবে মেসিকে কেন্দ্র করেই। তাছাড়া পর্তুগিজ তারকা রোনালদোও শেষ বিশ্বকাপ খেলবেন এবার। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত গাফফার মুখিয়ে আছেন দুই মহাতারকাকে সেরা মঞ্চে শেষবারের জন্য দেখতে, ‘মেসি ও রোনালদো নিঃসন্দেহে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রার্থিত দুই ফুটবলার। এবারও তাদের নিজ নিজ দলের হয়ে খেলতে দেখা ফুটবলভক্তদের জন্য বিশাল পাওয়া হবে। বয়সকে গৌণ করে এখনো দুজন অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়ে চলছেন। তাই আমি মনে করি দল, আয়োজক দেশ, দৈর্ঘ্য বাড়লেও এ বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা থাকবে আকাশচুম্বী।’ তিনি এবারও বাংলাদেশে বিশ্বকাপ নিয়ে বাড়তি আয়োজনের প্রত্যাশা করছেন, ‘যদিও বিশ্বকাপ খেলা আমাদের দূর কল্পনা। তারপরও অতীতের মতো এবারও বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বকাপ জ্বরে কাঁপবে। দলগুলো যেমন আরও আগে থেকেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। কোচরা যেমন নিজ নিজ দলকে সেরা রূপে তৈরি করতে ব্যস্ত, ঠিক তেমনই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরাও প্রস্তুতি নিতে শুরু করবে বিশ্বকাপের রঙে নিজেদের রাঙাতে।’

মামুনুল ইসলাম মনে করেন দলসংখ্যা বাড়ায় কোনো গ্রুপকেই ডেথ গ্রুপ বলা যাচ্ছে না, ‘এখানে ডেথ গ্রুপ বলতে গেলে কোনোটাই নেই। আমার বিশ্বাস ফেভারিট ছয় থেকে আটটি দলের সামনে ভালো সুযোগ থাকবে গ্রুপসেরা হয়ে পরের পর্বে যাওয়ার। তবে এটাও ঠিক, বিশ্বকাপের বড় মঞ্চ সবসময় অঘটনের জন্ম দেয়। আমরা গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারতে দেখেছি। এবার অনেক দেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে এসেছে। তারা যোগ্য বলেই এই মঞ্চে জায়গা পেয়েছে। তাই আসল রোমাঞ্চ দ্বিতীয় পর্ব থেকে শুরু হলেও বড় দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে প্রথম থেকেই।’ তিন দেশের মধ্যে আমেরিকা ও কানাডায় ফুটবল সংস্কৃতি ততটা সমৃদ্ধ নয়। মেক্সিকোতে অবশ্য ফুটবলের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। তাছাড়া দল বাড়ায় আসরের দৈর্ঘ্যও বেড়েছে। তাই কিছুটা সময় আকর্ষণহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা আছে মামুনুলের। তবে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, বিশেষ করে মেসি, রোনালদোকে নিয়ে বাংলাদেশিদের আগ্রহ থাকবে আগের মতোই।

এমিলি দল বাড়ানোর ইতিবাচক দিক দেখছেন অনেক, ‘আমি তো মনে করি এতে করে অনেক দেশ ফুটবল চর্চাটা এখন থেকে গুরুত্ব দিয়ে করবে। যেহেতু দল বেড়েছে, তার মানে চেষ্টা করলে নিজেদেরও খেলার সুযোগ তৈরি হবে। এবার এশিয়া থেকে জর্ডান ও উজবেকিস্তান প্রথম অংশ নিচ্ছে। ইরাকেরও প্লে-অফ উতরাতে পারলে সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া জাপান, কোরিয়া, ইরান, সৌদি, কাতার তো আছেই। আমি বিশ্বাস করি ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোও চেষ্টা করবে নিজেদের বড় মঞ্চে নিয়ে যেতে।’ দল বাড়ায় বাংলাদেশকেও একদিন বিশ্বকাপ মঞ্চে দেখছেন এমিলি, ‘আমি অবশ্যই বাংলাদেশকে নিয়ে সম্ভাবনা দেখি। কারণ দেখেন, কুরাকাও কেপ ভার্দে, নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো এসেছে। তারা যদি পারে, আমরা সঠিক পথে হাঁটলে আমাদেরও সুযোগ থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত