পাকিস্তানি সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান বিদ্রোহী বাঙালিদের ভয় করতেন, যেজন্য গণহত্যার হুকুম দিয়ে তস্করের মতো পালিয়েছিলেন। বলে রেখেছিলেন যে তিনি নিরাপদে করাচি না পৌঁছার আগে যেন হত্যাকাণ্ড শুরু না করা হয়। তারপর ৩ ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুদ্ধে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। তখন তিনি এমনকি নিজের দপ্তরে আসাও পছন্দ করতেন না। দুঃখকে ডুবিয়ে মারবার জায়গা-জমিন খুঁজতেন। একবার তো রটেই গিয়েছিল যে, সেনাপ্রধান আবদুল হামিদ খান ক্ষমতা দখল করে নিয়েছেন। সাবধানতার প্রয়োজনে হামিদ খানকে তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাখাটাই পছন্দ করতেন। শেখ মুজিবকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বলে তিনি ঘোষণা করেছিলেন। বলেছিলেন তাকে শাস্তি না দিয়ে ছাড়বেন না এবং হুঙ্কার দিয়েছিলেন এক ইঞ্চি ভূমিও ছেড়ে দেওয়া হবে না। শেষ পর্যন্ত কোনো কিছুই করতে পারলেন না। হামুদুর রহমান কমিশন তার ব্যাপারে তদন্ত করল, তাকে কোর্ট মার্শাল করা দরকার বলে জানাল, কিন্তু কোর্ট মার্শাল হলো না, সেনাবাহিনীর চাপেই হবে। তা ছাড়া ক্ষমতায় এসে ভুট্টো তখন নানা ধান্দায় ব্যস্ত আছেন, ভারতে আটক ৯৩ হাজার সৈনিক ফেরত আনা, বাংলাদেশ যে ১৯৫ জনকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে বিচারের জন্য ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে তাদের রক্ষা করা, এসবের মোকাবিলা করা সহজ ছিল না।
ইয়াহিয়া ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের বিচার করতে গেলে ভুট্টোর নিজের সংশ্লিষ্টতাও বেরিয়ে পড়বে, এমন ভয়ও যে ছিল না, তা তো নয়। খুবই ছিল। ইয়াহিয়া খানরা তাই বিচারের হাত থেকে বেঁচে গেলেন, নইলে শেখ মুজিবের পরিবর্তে তারাই রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত হতেন। কারণ আঘাত তারাই প্রথমে করেছেন এবং তার প্রতিক্রিয়াতে রাষ্ট্র ভেঙে গেছে। বোঝা গেছে, পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ জিনিসটা কেমন কৃত্রিম ও অস্বাভাবিক ছিল এবং তার সশস্ত্র রক্ষকরা কতটা অন্ধ, মূর্খ ও হৃদয়হীন ছিল। পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের ঘূর্ণিপাকে পড়ে সাতচল্লিশে কত মানুষ যে চরম দুর্ভোগ সহ্য করেছে, তার হিসাব নেই। একাত্তরে তারই প্রকোপে আবার কতজন কী যন্ত্রণা সহ্য করল, তারও হিসাব করা সম্ভব হবে না। পাকিস্তান এক জাতির রাষ্ট্র ছিল না। সে রাষ্ট্রে বাঙালি, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, পাঠান, বেলুচ, মোহাজের এদের প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন জাতিসত্তা ছিল। তাদের দলিতমথিত করে এক জাতিতে পরিণত করা ছিল অসম্ভব কর্ম। করতে গেলে যেসব বিপদ ঘটা সম্ভব তার সবকটিই ঘটেছিল একাত্তরে, পূর্ববঙ্গে তো বটেই পশ্চিম পাকিস্তানেও। যুদ্ধ শেষে যে বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি সেটাও কিন্তু এক জাতির দেশ নয়। এখানে অন্য জাতিসত্তাও রয়েছে, তারা সংখ্যায় যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন। ভোলা অন্যায় হবে যে, আমাদের রাষ্ট্র জাতি-রাষ্ট্র নয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এ যুগে এক জাতি, এক রাষ্ট্র এমন বিন্যাস আর সম্ভবপর নয়।
পূর্ব যে পশ্চিম থেকে আলাদা হবে, এটা অনিবার্য ছিল। তার কারণগুলো আমরা জানি। ভৌগোলিক দূরত্ব, এককেন্দ্রিক শাসন, কেন্দ্রের শোষণ, নানা ক্ষেত্রে বৈষম্য, এসব কারণ মোটেই অপ্রত্যক্ষ ছিল না। কিন্তু জাতীয়তার প্রশ্নটিও যে নির্ধারকের ভূমিকায় ছিল, সেটা যেন না ভুলি। অবিভক্ত বঙ্গে শোষিত বাঙালি মুসলমান নিজের ‘মুসলমান’ পরিচয়টি প্রধান হিসেবে দেখতে পেয়েছে, কেননা স্থানীয় শোষক হিসেবে যারা দৃশ্যমান ছিল তাদের অধিকাংশই ছিল হিন্দু। সেটাই ছিল কৃত্রিম পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ তৈরির ভিত্তি। ওটিকে তৈরি করা বিশেষভাবে দরকার হয়ে পড়েছিল শ্রেণিচেতনাকে দমিয়ে রাখার জন্য। পাকিস্তান কায়েম হওয়ার পর বাঙালি মুসলমান দেখল যে, সে শোষিত হচ্ছে একদল মুসলমানের দ্বারা, যারা অবাঙালি। তখন তার ভেতর যে চেতনাটি বড় হয়ে দেখা দিল, সেটা বাঙালি জাতীয়তাবাদের। ওটি সব সময়েই ছিল, বলা যায় সুপ্ত না থেকে আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠল। জাতীয়তাবাদের এই বিষয়টিকে বিবেচনার মধ্যে না নিলে, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার পূর্ণ ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে না। আইয়ুবী শাসনামলে বাঙালি অর্থনীতিবিদরা দুই অর্থনীতির বাস্তবতাকে তুলে ধরেছিলেন। পাকিস্তানি শাসকরা তাতে বিব্রত তো অবশ্যই, বিচলিতও বোধ করেছেন। কারণ ওই তত্ত্ব পূর্ববঙ্গ কীভাবে বঞ্চিত হচ্ছে সে বিষয়ে বাঙালিদের সজাগ করে দেয়। সত্তরের নির্বাচনে ‘পূর্ববঙ্গ শ্মশান কেন’ এই প্রশ্ন তুলে বৈষম্যের যে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছিল তা ভোটারদের দারুণভাবে প্রভাবিত করে। কিন্তু চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশে জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নটিই ছিল নির্ধারক। বাঙালি জাতীয়তাবাদের বোধ জেগে উঠেছিল এবং পাকিস্তানি রাষ্ট্র-কাঠামোর মধ্যে তার মীমাংসা সম্ভব ছিল না। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য সে কথাটাই জানিয়ে দিচ্ছিল। এটা বললে অসঙ্গত হবে না যে, জাতি প্রশ্নের মীমাংসার প্রয়োজনীয়তাতেই বাংলাদেশকে স্বাধীন হতে হয়েছে। ব্যাপারটা স্মরণ করা জরুরি এই জন্য যে একে সাধারণত অবজ্ঞা করা হয়। একটি দৃষ্টান্ত দেওয়া অবান্তর হবে না। দুই অর্থনীতির জোরালো প্রবক্তা ছিলেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তার ওই সময়ের লেখার সংকলন করে একটি বই বের হয়েছে যেটির তিনি নাম রেখেছেন ফ্রম টু ইকোনমি টু টু নেশনস। ব্যাপারটা কিন্তু ঠিক ওই রকমের নয়। প্রথমত দুই ইকোনমি দুই নেশনের জন্ম দেয়নি, বাঙালির একটি স্বতন্ত্র নেশন আগেও ছিল, ঐতিহাসিকভাবেই ছিল, যে জ্ঞান ঘা খেয়ে জেগে উঠেছে মাত্র। দ্বিতীয়ত, একাত্তরে বাঙালিরা নিজেদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে ঠিকই, কিন্তু তাই বলে পশ্চিম পাকিস্তানের পাঁচ পাঁচটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা যে মিলে মিশে এক হয়ে গেছে তা তো নয়। জাতি প্রশ্নের মীমাংসা করতে ব্যর্থ হলে পাকিস্তান আবারও ভাঙবে, যেমন একই কারণে ভাঙবে ভারতও। হিন্দি ভাষা ও হিন্দুত্ববাদ ভারতীয় ঐক্যের জন্য যথেষ্ট নয়। হিটলার-মুসোলিনি খুব বড়মাপের জাতীয়তাবাদী ছিলেন। আগ্রাসী হলে সে জাতীয়তাবাদ কতটা যে নৃশংস হতে পারে আমাদের দেশে একাত্তরের হানাদাররা তার নতুন জ¦লন্ত প্রমাণ দিয়েছে। কিন্তু তাই বলে জাতিগত পরিচয় যে নিছক কল্পনার ব্যাপার, তা নয়। এই পরিচয় গড়ে ওঠে ভাষা, অর্থনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পরিবেশ, সামাজিকভাবে পাশাপাশি বাস করার অভিজ্ঞতা, সব কিছুর বাস্তবিক সংমিশ্রণে। আশ্রয় দেয়, একাত্তরে যেমন দিয়েছিল বাঙালিদের। জাতীয়তাবাদ আবার পারে আহত বন্যপ্রাণীর মতো হিংস্র হতে, ওই সময়ে যেমনটা হয়েছিল হানাদার পাকিস্তানিদের জাতীয়তাবাদ।
২. পাকিস্তানের কেন্দ্রে ছিল পাঞ্জাব। পাকিস্তান ওইভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারতবর্ষের মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র আবাসভূমির আবশ্যকতার বোধ থেকে উত্তর-পশ্চিমের যে এলাকায় উপযুক্ত পরিসর পাওয়া সম্ভব বলে ধারণা করা হয়েছিল তার কেন্দ্রে পাঞ্জাব থাকবে, এটাই ছিল স্বাভাবিক। ওই অঞ্চলে পাঞ্জাবই ছিল সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে যেমন, তেমনি সামরিক ও প্রশাসনিক দিক থেকেও। স্বতন্ত্র আবাসভূমির চিন্তাও দুজন পাঞ্জাবির মনেই প্রথমে দেখা দিয়েছিল। তাদের একজন ইংল্যান্ডে প্রবাসী ছাত্র, অপরজন বিখ্যাত কবি। বলা বাহুল্য, তাদের ওই চিন্তায় বাংলার কথা ছিল না। ১৯৪০ সালে পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে স্বতন্ত্র আবাস ভূমির দাবি উত্থাপন করে যে প্রস্তাব গৃহীত হয় সেটাই পাকিস্তান প্রস্তাব নামে পরিচিতি পায়। এর প্রধান প্রবক্তা জিন্নাহ মনে করতেন এবং বলতেনও যে, পাঞ্জাবই হবে পাকিস্তানের হৃৎপিণ্ড। বাঙালি মুসলমানও লাহোর প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছিল। প্রস্তাবটি বাংলার প্রধানমন্ত্রী এ কে ফজলুল হকই উত্থাপন করেন। এটাও মোটেই তাৎপর্যহীন নয় যে, ছাব্বিশ বছর পরে শেখ মুজিবুর রহমান, ততদিনে যিনি বাঙালিদের মুখপাত্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন, তিনিও ওই লাহোরে গিয়েই তার ছয় দফা দাবি পেশ করেন এবং ছয় দফার প্রথম দফাতেই বলা হয়েছিল যে, রাষ্ট্রীয় কাঠামো হওয়া চাই ফেডারেল, যার ভিত্তিতে থাকবে লাহোর প্রস্তাব। এর আগে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের সময় যে একুশ দফাকে সামনে রেখে মুসলিম লীগ-বিরোধী যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়, তারও প্রথম দফাটি ছিল ‘ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব অনুসারে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন।’ মওলানা ভাসানীও লাহোর প্রস্তাবের কথা বলতে পছন্দ করতেন। আগরতলা মামলার কথিত ‘ষড়যন্ত্রে’র মূল পরিকল্পনাকারী লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন মামলা শেষ হওয়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেবেন ঠিক করেছিলেন। অন্য কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে তিনি ‘লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরে শেখ মুজিবকেও একবার লাহোর যেতে হয়েছিল। এবার গেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক স্টেটসের কনফারেন্সে যোগদানের জন্য।
দেখা যাচ্ছে, কোনো না কোনোভাবে লাহোর থেকেই গেছে। থাকার কারণ অন্যকিছু নয়, পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ। লাহোর প্রস্তাব সম্পর্কে পূর্বাঞ্চলের ধারণাটি ছিল পশ্চিমাঞ্চলের ধারণা থেকে একেবারেই পৃথক। পূর্বাঞ্চল ভেবেছে আদি প্রস্তাবটির কথা, যেখানে একটি নয়, একাধিক রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছে। তদবিপরীতে পশ্চিমের ধারণা কেবল এক রাষ্ট্রের নয়, একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রের। জিন্নাহ ওইভাবেই দাবিটিকে সংশোধন করিয়ে নিয়েছিলেন। সংশোধনটি করা হয়েছিল প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের একটি যৌথ সভাতে। সেটি ১৯৪৬-এর নির্বাচন-পরবর্তী ঘটনা। সভায় পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য শপথ গ্রহণ করানো হয়। অনুরূপ একটি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেখ মুজিবও করেন, ১৯৭০-এর নির্বাচনের পরে। মনে হবে সরাসরি অনুসরণ। তবে পার্থক্য ছিল এবং সে-পার্থক্যের মূলে ছিল পরস্পরবিরোধী দুটি জাতীয়তাবাদের ভেতরকার দূরত্ব। জিন্নাহর সভার উদ্দেশ্য ছিল, লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করিয়ে নেওয়া এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য অঙ্গীকার ব্যক্ত করানো। শেখ মুজিবের সভা ডাকা হয়েছিল ছয় দফা সংশোধনের জন্য নয়, বরং তাদের প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করার জন্য। ১৯৪৬-এর সভাটি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পথে এগোবার কথা বলেছে, ১৯৪৭-এর সভা প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানকে ভাঙার পথে অগ্রযাত্রার আভাস দিয়েছে। ১৯৪৬-এর সভায় বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উপস্থিত ছিলেন। তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ, লাহোর প্রস্তাবের সংশোধনীটি তাকে দিয়েই উত্থাপন করানো হয়েছিল। ১৯৭১-এ সোহরাওয়ার্দী নেই। তিনি ১৯৬৩ সালে মারা যান। তিনি জীবিত থাকলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের আন্দোলনের ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারতেন আমরা জানি না, তবে তিনি যেহেতু বাংলার হলেও বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিপরীতে পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করতেন, তার প্রভাবটি তাই নেতিবাচকই হওয়ার কথা ছিল। সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পরেই শেখ মুজিব আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করেন। সেটি সর্ব পাকিস্তানের ভিত্তিতে নয়, তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের ভিত্তিতেই। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী ওই পুনরুজ্জীবনের বিরুদ্ধে ছিলেন।
লেখক: ইমেরিটাস অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
