মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) কোনো জাদুর কাঠি নয় বা মহৌষধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। গতকাল বুধবার দেশের একটি জাতীয় দৈনিকের কার্যালয়ে ‘রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ : চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এমন মন্তব্য করেন । তিনি বলেন, এফটিএর কথা প্রায়ই বলা হয়। সবাই বলে, এফটিএ জাদুর কাঠি। বাস্তবে এফটিএ জাদুর কাঠি নয়। গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনে সহায়তা করেছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য আমদানিনির্ভর। এখানে যা লেনদেন হয়, তা থেকে ২০-২২ হাজার কোটি টাকার অভ্যন্তরীণ রাজস্ব তৈরি হয়। চীনের বাজারে ৯৯ শতাংশ শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাই। এখন আমরা চীনের সঙ্গে এফটিএ করলে হারব। আমরা জিততে পারব না। চীন প্রচ- চাপ দিয়েছে এফটিএ করার জন্য। আমাদের এফটিএ করা কী ঠিক হবে?
তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে আমার কাছে মনে হয়, এফটিএ কোনো জাদুর কাঠি নয়। আপনাদের ধারণা, আমি জাপানের সঙ্গে এফটিএ সই করছি। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সই করছি।’
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যখন কোথাও মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করতে যায়, তখন এটি কেবল বাণিজ্যচুক্তি নয়। এখানে অনেক কিছু ভাবতে হবে যে আমাদের বিদেশের বাজারে কী পণ্য দেওয়ার আছে। আমাদের একটাই পণ্য তৈরি পোশাক। আমাদের যখন ছাড় দিতে হবে, তখন ভাবতে হয়। কী ছাড় দেব এবং এর বিপরীতে আমরা কী পাব।’
এ সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘গত ১৬ বছরের দুর্বৃত্তায়নে অর্থনীতিতে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তাতে সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ হয়েছে। এত খেলাপি ঋণ পৃথিবীর বহু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশেও নেই।’
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ১২ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল। এর মধ্যে ছয় বিলিয়ন ডলার বিদেশি দায় অপরিশোধিত ছিল। এর মানে তখন নিট রিজার্ভ ছয় বিলিয়ন ডলার ছিল। এটি এক মাসের কম সময়ের রিজার্ভ ছিল। এখন তিন-চার মাসের রিজার্ভ আছে। যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে উত্তরণ করতে চাই। উত্তরণের ক্ষেত্রে ক্ষতের মূল বিষয় ভুলে গেলে আমরা ভুল করব।’
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, সহজ ব্যবসা ও ব্যবসার পরিচালন ব্যয় এই দুটি বিষয় বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায় ভালো করার জন্য এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নানা সমস্যা ওঠে এসেছে। নির্দিষ্ট কিছু নীতিমালার কারণে এসব ক্ষেত্র সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বার্জার পেইন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী, রেনাটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ এস কায়সার কবির, দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব উর রহমান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরীসহ অন্যরা।
