রেহেনা বেগমের বয়স আনুমানিক ৪০। দুই মেয়ে ও এক ছেলের জননী তিনি। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। তেরো বছর বয়সী ছেলেও অসুস্থ, কর্ম-অক্ষম স্বামীকে নিয়ে চলছে তার সংসার। স্বামী আত্তাব শেখ দীর্ঘদিন ধরে রোগাক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। ফলে তিন সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণের পুরো দায় এখন রেহেনা বেগমের কাঁধে। রাস্তার ধারে পিঠা বিক্রি করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করেন তিনি।
ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চালিনগর মাদরাসা সংলগ্ন চৌরাস্তার এক কোণে প্রতিদিন পিঠা বিক্রি করেন রেহেনা বেগম। শীতের এক বিকেলে তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ভ্যানচালক আত্তাব শেখের তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী কুলছুম বেগম পক্ষাঘাতগ্রস্ত হলে তার সেবা-যত্নের উদ্দেশ্যে আত্তাব শেখ তাকে বিয়ে করেন। ছয় বছর আগে রোগে ভুগে কুলছুম বেগম মারা যান। ওই সংসারে পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে ছিল। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে এবং ছেলেটি আলাদা থাকে।
রেহেনা বেগম আরও জানান, স্বামীর উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সামান্য জমি থাকলেও তা পানির মধ্যে হওয়ায় বসবাসের অযোগ্য। বোয়ালমারী উপজেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে চালিনগর গ্রামে দেড় শতক জমি রয়েছে। বর্তমানে তারা বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাহিদুল হক মন্টুর বাড়ির পাশে একটি কুঁড়েঘরে বসবাস করছেন।
শীতকালে তিনি ওই গ্রামেই একটি দোকানের সামনে বসে বিকেলে পিঠা বিক্রি করেন। শীত মৌসুম শেষে পার্শ্ববর্তী সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা গ্রামে অবস্থিত আকিজ বশির গ্রুপের জনতা জুট মিলের সামনে বসে পিঠা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিদিন পিঠা বিক্রি করে গড়ে প্রায় দুইশ টাকা লাভ হয়, যা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলে।
শীত নিবারণের জন্য পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রও নেই তাদের। রেহেনা বেগম বলেন, ‘পেটই ঠিকমতো চলে না, সেখানে শীত নিবারণের কথা কীভাবে বলি!’
এ বিষয়ে বোয়ালমারী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।’
