যান্ত্রিক চাষে হারিয়ে যাচ্ছে গরু দিয়ে হাল চাষের ঐতিহ্য

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৭ পিএম

এক সময় গ্রাম বাংলার কৃষির প্রধান ভরসা ছিল গরু ও লাঙল দিয়ে হাল চাষ। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিস্তারে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সেই ঐতিহ্যবাহী চাষ পদ্ধতি এখন প্রায় বিলুপ্ত।

কৃষকরা জানান, লাঙল দিয়ে চাষে জমির গভীর অংশ আলগা হতো, গরুর পায়ে কাদা তৈরি এবং গোবর পড়ে জমির উর্বরতা বাড়ত। কিন্তু বর্তমানে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের ব্যবহারে অল্প সময়ে জমি চাষ সম্ভব হওয়ায় কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী হাল চাষ ছেড়ে দিচ্ছেন।

এক সময় কাকডাকা ভোরে গরু, লাঙল ও জোয়াল কাঁধে নিয়ে কৃষকদের মাঠে যেতে দেখা যেত। এখন প্রয়োজন হলেই আধুনিক যন্ত্রে জমি চাষ করা হচ্ছে। এতে হালচাষ নির্ভর অনেক কৃষক পেশা পরিবর্তনে বাধ্য দিচ্ছেন।

উপজেলার রাজাখালী গ্রামের কৃষক আবদুল মজিদ হাওলাদার বলেন, শৈশবে হাল চাষ করেই বড় হয়েছি। তখন বাড়িতে কয়েক জোড়া বলদ, কাঠের লাঙল আর বাঁশের জোয়াল ছিল। এখন সেই দৃশ্য আর নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান বলেন, গরু ও লাঙল ছিল পরিবেশবান্ধব ও ঐতিহ্যবাহী কৃষি পদ্ধতি। তবে আধুনিক প্রযুক্তিতে কম সময়ে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে কৃষিতে আরও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন আসবে।

আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার গরু দিয়ে হাল চাষের বহু বছরের চিরচেনা ঐতিহ্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত