ভারতীয় বিজ্ঞানীরা তৈরি করলেন বার্ডফ্লু সংক্রমণ প্রেডিকশন মডেল

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:২৪ পিএম

ভারতের গবেষকরা একটি নতুন কম্পিউটার সিমুলেশন তৈরি করেছেন, যা এইচ৫এন১ বার্ড্ফ্লু ভাইরাস কীভাবে পাখি থেকে মানুষে সংক্রমণ ছড়াতে পারে এবং মহামারির আকার নিতে পারে তা বোঝাতে সাহায্য করবে। এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন আশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিপ চেরিয়ান ও গৌতম মেনন। বিএমসি পাবলিক হেলথ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ের দ্রুত পদক্ষেপে ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

২০০৩ সাল থেকে এইচ৫এন১ বার্ড্ফ্লু ২৫টি দেশে ৯৯০ জনকে সংক্রমিত করেছে, যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৮ শতাংশের। ভারতের নাগপুরে ভাইরাসের সংক্রমণে তিনটি বাঘ এবং একটি চিতাবাঘের মৃত্যু ঘটেছে, যা মানুষের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। মানুষের সংক্রমণে লক্ষণগুলো সাধারণ ফ্লুর মতো—উচ্চ জ্বর, কাশি, পেশী ব্যথা, এবং কখনও কখনও চোখে প্রদাহ—যদিও অনেক মানুষ কোনো লক্ষণ দেখান না।

গবেষণায় লক্ষ্য করা হয়েছে সিমুলেশনে ভাইরাস প্রথম সংক্রমিত পাখি থেকে প্রাথমিক সংস্পর্শে আসা মানুষদের (কৃষক বা বাজারকর্মী) মাধ্যমে ছড়ায়, এরপর তাদের সঙ্গে যোগাযোগে থাকা গোষ্ঠীগুলোতে সংক্রমণ ছড়িয়ে যায়। ফলাফল দেখায়, যদি প্রাথমিক সংস্পর্শে আসা মানুষের পরিবারের সদস্যদের তাড়াতাড়ি কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়, বিশেষ করে মাত্র দুইটি সংক্রমণের পর, তাহলে মহামারির বিস্তার আটকানো সম্ভব। তবে ১০টি সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার সময় পর্যন্ত মানব-মানব সংক্রমণ ইতিমধ্যেই ব্যাপক হয়ে যেতে পারে।

সংক্রমিত মানুষকে আলাদা রাখা, পরিবারের সদস্যদের কোয়ারেন্টিন করা এবং লক্ষ্যভিত্তিক ভ্যাকসিনেশন ভাইরাসের বিস্তার হ্রাস করতে সাহায্য করে। গবেষণাটি সতর্কবার্তা দিচ্ছে যে, পাখির ফ্লু থেকে মানব মহামারির ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত নজরদারি এবং জরুরি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপরিহার্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত