দুর্নীতির মাধ্যমে ২২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ অর্জন এবং ৮৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সন্দেহভাজন লেনদেন-সংক্রান্ত মামলার আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানান সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।
দুদকের তথ্যমতে, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগবাণিজ্য, ঘুষ, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান, ছেলে শাফি মোদাচ্ছের খান ও মেয়ে শাফিয়া তাসনিম খানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। মামলার তদন্তে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ওই মামলার বাদী ছিলেন।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মামলায় আসাদুজ্জামান কামালের বিরুদ্ধে ১৬ কোটি ৪১ লাখ ৫৭ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তদন্তে অবৈধ সম্পদের পরিমাণ আরও বেশি পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে ২২ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ১৬২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে কামালের ৯টি ব্যাংক হিসাবে ৮৭ কোটি ৪৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৩ টাকার সন্দেহভাজন লেনেদেনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ব্যাংকে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারাসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় চার্জশিট অনুমোদন করা হয়েছে।
দুদকের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর আসাদুজ্জামান খান পরিবারের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১৬ কোটি ৪১ লাখ ৫৭ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৮টি ব্যাংক হিসাবে ৫৫ লাখ ৯২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৬ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
অন্য মামলায় লুৎফুল তাহমিনা খান ও তার স্বামী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ১৫ কোটি ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯১ টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং লুৎফুল তাহমিনা খানের ১০টি ব্যাংক হিসাবে ১৬৬ কোটি ৬৬ লাখ ১৩ হাজার ৭১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার দুই সন্তানের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলায় আসামি করা হয়। এর মধ্যে ছেলে শাফি মোদাচ্ছের খানের বিরুদ্ধে মামলায় ১৯ কোটি ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫০২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৬৭ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়। আর মেয়ে শাফিয়া তাছনিম খানের বিরুদ্ধে মামলায় ৮ কোটি ৭৭ লাখ ৬৮ হাজার ৪৮৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ২৬ কোটি ৩৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৪২ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে গত ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
