দিনাজপুরে হিম বাতাসে বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৯ এএম

হিমালয়ের পাদদেশের জেলা দিনাজপুরে দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে শীত। ডিসেম্বরের শেষভাগে হঠাৎ করে নেমে আসা কনকনে ঠা-া, ঘন কুয়াশা ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে জেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শীতের দাপটে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

গত শুক্রবার সূর্যাস্তের পর থেকেই দিনাজপুরের ওপর দিয়ে বইতে শুরু করে হিমেল বাতাস। সেই সঙ্গে গতকাল শনিবার ভোর থেকে দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। এর ফলে ‘সড়ক, হাটবাজার ও খোলা স্থানে মানুষের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই ভারী শীতবস্ত্র গায়ে জড়িয়েছেন।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে অসহনীয় করে তুলছে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া নওগাঁর বদলগাছিতে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১৪ ডিগ্রি, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি, যশোরে ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি, রংপুরে ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি, রাজশাহীতে ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি, বগুড়া ও চুয়াডাঙ্গায় ১৫ ডিগ্রি এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

ভোরের প্রচন্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মানুষজন কাজে বের হতে পারছেন না। এতে তাদের দৈনন্দিন আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা শামসুল ইসলাম বলেন, ‘আজ সূর্যের মুখই দেখা যাচ্ছে না, শুধু ঠান্ডা বাতাস। এই শীতে বাড়ি থেকে বের হওয়াই মুশকিল। আজ যে বাতাস বইছে, তাতে কাজে যেতে মন চায় না। খুব কষ্ট হচ্ছে।’

ইজিবাইক চালক আশিক বলেন, ‘ঘনকুয়াশার কারণে একটু আগে আমি রামনগরে দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেছি। সামনে একটি ট্রাক দাঁড়ানো ছিল, ঘন কুয়াশার কারণে কিছুই দেখতে পারিনি। একবারে ট্রাকের পেছনে গিয়ে ব্রেক করেছি। ব্রেক না করলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।’

ট্রাকচালক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে দিনাজপুরে তীব্র শীত গায়ে লাগছে। এরই মধ্যে কয়েকদিন ধরে ভোর থেকে ঘন কুয়াশা শুরু হয়েছে। এতে করে আমাদের গাড়ি চালাতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। গাড়ির সামনের কয়েক হাত দূরে ঠিক মতো দেখা যাচ্ছে না। এতে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।’

শহরের বড়মাঠের কাপড় ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। গত শুক্রবার এই বাজারে ক্রেতাদের খুব ভিড় ছিল। গতকাল সকালেও ছিল ক্রেতাদের খুবই ভিড়।’

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আগামী দু-তিন দিন দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত বা সামান্য ওঠানামা করতে পারে। বৃষ্টির তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। ২৩ ডিসেম্বরের পর থেকে রাতের তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত