কৃষিসেবা কেন্দ্রগুলো যেন ভুতুড়ে বাড়ি

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪০ এএম

জয়পুরহাটে বছরের পর বছর অযত্ন আর অবহেলায় জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে প্রান্তিক কৃষকদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান জেলার প্রায় সবগুলো ইউনিয়ন কৃষিসেবা কেন্দ্র। সংস্কারের অভাবে পরিত্যক্ত ভবনগুলো পরিণত হয়েছে ভুতুড়ে বাড়িতে। কোনোটা হয়েছে ময়লার ভাগাড়। অনেক কেন্দ্র পরিণত হয়েছে মাদকসেবী ও অপরাধীদের আস্তানা। এতে একদিকে কৃষিসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ। দ্রুত কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে চালুর দাবি কৃষক ও স্থানীয়দের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষে সংস্কার করা হবে।

জানা গেছে, ১৯৮০’র  দশকে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে কৃষিসেবা দোড়গাড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে জয়পুরহাটের ৩২টি ইউনিয়নে নির্মাণ করা হয় ইউনিয়ন কৃষি সম্প্রসারণ কেন্দ্র ও কৃষি তথ্য সেবাকেন্দ্র। কেন্দ্রগুলোয় প্রথমদিকে স্থানীয় কৃষকরা বীজ, সার ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করাসহ মাঠপর্যায়ের কৃষি অফিসারদের কাছ থেকে কৃষিপণ্য উৎপাদনে নানা পরামর্শ ও সহযোগিতা পেতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে ভবনগুলো সংস্কারের অভাবে এখন পরিত্যক্ত। আগাছা-লতাপাতায় জনশূন্য ও জরাজীর্ণ ভবনগুলো হয়েছে ভুতুড়ে বাড়ি ও কোনোটা ময়লার ভাগাড়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মাদকসেবীসহ অপরাধীদের আনাগোনা বেড়েছে কেন্দ্রগুলোতে। দ্রুত সংস্কার করে পূর্বের মতো প্রান্তিক কৃষকদের কৃষিসেবা নিশ্চিত করার দাবি তাদের।

সদর উপজেলার পুরানাপৈল ইউনিয়ন এলাকার কৃষক শাহাদৎ হোসেন, আব্দুল মতিন, দোকানি সাগর হোসেন, জামালপুরের মোকলেছুর রহমানসহ অন্য এলাকার আরও অনেকে বলেন, আগে কৃষি কর্মকর্তারা অফিসে বসতেন, তারা ফসল উৎপাদনে নানা বিষয়ে পরামর্শ দিতেন। এখন আর এসব অফিসে কেউ থাকে না। বছরের পর বছর ধরে অফিসগুলো বন্ধ হয়ে আছে। পুরানাপৈল কৃষি অফিসসহ বিভিন্ন অফিসের সামনে ও চারপাশে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। এতে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের খুব সমস্যা হয়। আবার কোনো কোনো অফিসে নেশাখোরদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় জরাজীর্ণ হয়ে ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে ইট, দরজা, জানালা চোরেরা খুলে নিয়ে গেছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত কৃষি অফিসগুলো সংস্কার করে চালু করা হোক। তাহলে এলাকার কৃষকরা কৃষিসেবা পেয়ে ভালোভাবে ফসল ফলাতে পারবে ও লাভবান হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমদিকে এই অফিসগুলোতে বীজসহ কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করা হতো। পরে কিছু অফিসে কৃষি অফিসাররা বিভিন্ন রকম কৃষিসেবা দিতেন। সংস্কারের অভাবে দিন দিন ভবনগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়েছে। এজন্য ২-১টি বাদ দিয়ে ভবনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে অর্থ বরাদ্দ চেয়েছি। যদি বরাদ্দ পাওয়া যায়, তাহলে ভবনগুলো সংস্কার করা হবে। তারপরে মাঠপর্যায়ের কৃষি অফিসাররা অফিসে বসতে পারলে কৃষকরা পরামর্শ, সেবা ও সহযোগিতা পেয়ে উপকৃত হবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত