লিভারপুলে সাম্প্রতিক সময়ে শুরুর একাদশে না থাকা ও ক্লাব ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও জাতীয় দলের হয়ে নিজের গুরুত্ব নতুন করে প্রমাণ করলেন মোহামেদ সালাহ। আফ্রিকা কাপ অব নেশনস কাপে প্রত্যাশার বাইরে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েও শেষ পর্যন্ত তার গোলেই জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পেরেছে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন মিসর। সোমবার মরক্কোর আগাদিরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে যোগ করা সময়ের নাটকীয় গোলে জিম্বাবুয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারান ফেরাউনরা।
ম্যাচ শুরুর পর থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় মিসর। পুরো জিম্বাবুয়ে দলকে নিজেদের অর্ধে ঠেলে দেয় তারা। সালাহর বিপজ্জনক ক্রস ও শট, মারমুশের গতিময় দৌড় সব মিলিয়ে শুরুতেই চাপ তৈরি হয়। তবে কাক্সিক্ষত গোল আসেনি। বরং ম্যাচের ২০ মিনিটে প্রতিপক্ষের এক আক্রমণেই স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারি।
ইমানুয়েল জালাই ডান প্রান্ত থেকে বল বাড়ান বক্সে। সেখানে বল পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিচু শটে জাল কাঁপান প্রিন্স দুবে। গোল হজমের পর কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়ে মিসর। এক পর্যায়ে নিজেদের ছয় গজ বক্সে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল শেনাওয়ির দৃঢ়তায় বড় বিপদ এড়ায় দলটি।
প্রথমার্ধে একাধিকবার সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল মিসর। একবার মারমুশের দূরপাল্লার শট আঙুলের ছোঁয়ায় কর্নারে পাঠান ৪০ বছর বয়সী জিম্বাবুয়ের গোলরক্ষক ওয়াশিংটন আরুবি। সালাহও ছিলেন চিরচঞ্চল, কিন্তু তার শট ও ক্রস বারবার আটকে যায় জিম্বাবুয়ের রক্ষণে। হতাশা বাড়তে থাকায় বক্সের ভেতরে পড়ে গিয়ে হলুদ কার্ডও দেখেন মাহমুদ ‘ত্রেজেগে’ হাসান।
বিরতির পর দৃশ্যপট বদলায়নি। একচেটিয়া আক্রমণ চালিয়েও গোল পাচ্ছিল না মিসর। অবশেষে ৬৩ মিনিটে কাক্সিক্ষত সমতা আসে। অফসাইড ফাঁদ ভেঙে পাস ধরে সামনে এগিয়ে যান ওমর মারমুশ। এরপর টাইট অ্যাঙ্গেল থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে ফেরাউনদের স্বস্তি এনে দেন ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ড।
গোলের পর মিসরের আক্রমণের গতি আরও বেড়ে যায়। একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে লিড নেওয়া হচ্ছিল না। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে এক বনাম এক পরিস্থিতিতে সুযোগ পেয়েও তাড়াহুড়োয় শট বাইরে মারেন সালাহ। মনে হচ্ছিল ম্যাচটি ড্রয়ের দিকেই যাচ্ছে।
কিন্তু যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই নাটকের চূড়ান্ত পর্ব। বক্সের ভেতরে আলগা হয়ে যাওয়া বলের দিকে সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়েন সালাহ। দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত প্লেসিংয়ে শট নেন তিনি। অভিজ্ঞ আরুবিকে পরাস্ত করে বল জড়িয়ে যায় জালের কোণে। গ্যালারিতে উল্লাস, আর মিসরের ডাগআউটে স্বস্তির নিঃশ্বাস।
ম্যাচ শেষে মিসর কোচ ও সাবেক কিংবদন্তি হাসাম হাসান বলেন, ‘সালাহ মানসিকভাবে খুবই শক্ত অবস্থানে আছে। সে একজন আইকন এবং সব সময়ই সেরাদের একজন। দলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তার ক্ষুধা এখনো তীব্র।’
এই জয়ে প্রথম ম্যাচ শেষে তিন পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সমতায় রয়েছে মিসর। এর আগে মারাকেশে অ্যাঙ্গোলাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে শুক্রবার আগাদিরেই দুই দলের মুখোমুখি লড়াইটি হয়ে উঠেছে গ্রুপ শীর্ষ নির্ধারণের ম্যাচ।
