পথচলা হোক জনকল্যাণের

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০১ এএম

রাজনীতিতে যেমন যুক্তি থাকে, তেমনি কাজ করে আবেগ। আমাদের দেশে সেই প্রমাণ রয়েছে অনেক। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে যখন দেশের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান, তখন গতকাল তৈরি হয়েছিল অদ্ভুত এক আবেগময় পরিবেশ। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে রাজনীতিতে এক ধরনের নেতৃত্ব শূন্যতা চলছিল। তার আগমনে সেটি অনেকটাই পূরণ হবে। কারণ তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে থাকার কারণে তার কথা এবং কর্মই হবে আগামীর পথনির্দেশক। স্বাভাবিকভাবেই তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি একে ‘আশার আলো’ ও ‘ঐতিহাসিক’ বলছে। কারণ তার সক্রিয় উপস্থিতি দলকে চাঙা করবে। অন্যদিকে তারেক রহমানের ফেরা নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করেছে, যা আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিশ্চিতভাবেই এর ফলে পাল্টে যাবে ভোটের হিসাবনিকাশ।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় বাঁক, যা দেশের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তারেক রহমান গতকাল এক গণসংবর্ধনায় গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশকে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।’ দেশকে গড়ে তুলতে যে পরিকল্পনা তিনি করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে তখনই যখন আসন্ন নির্বাচন নির্বিঘেœ সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে আশা করা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে। যদি তাই-ই হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের ফেরা নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করেছে, যা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের জন্য একটি বড় শক্তি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে যে শূন্যতা রয়েছে, তা পূরণ হবে এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি যখন বলেন, ‘দেশে বাস্তব অর্থেই একটি রাজনৈতিক শূন্যতা বিদ্যমান। তারেক রহমানের আগমনে সেই শূন্যতা পূরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’ তখন বিষয়টি গভীরভাবে ভাবতে হবে।

তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন মামলার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে, একদিকে ব্যাপক আলোচনা এবং অন্যদিকে প্রত্যাশা বিরাজ করছে।  বিষয়টিকে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করবেন। যেখানে রয়েছে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং আদর্শগত দ্বন্দ্ব। কিন্তু

সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে যদি বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে স্বীকার করতে হবে একমাত্র বৃহৎ গণতান্ত্রিক শক্তির পক্ষেই দেশকে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ এই মুহূর্তে তারেক রহমানের সেই ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ জানার অপেক্ষায় থাকল। প্রত্যাশা করা যায়, গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল এবং মানুষকে নির্দিষ্ট গঠনমূলক পথে নিয়ে আসার জন্য তিনি নিজেকে এবং দলকে গড়ে তুলবেন। একসময় তিনিই চিহ্নিত হবেন, দেশপ্রিয় একজন জনবান্ধব রাজনীতিবিদ হিসেবে। গতকাল থেকেই শুরু হয়েছে তার বন্ধুর পথচলা। এই পথ হোক মসৃণ এবং জনকল্যাণের। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত