টানা ছুটিতে পর্যটকে মুখর কক্সবাজার

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৩৯ এএম

বড়দিনসহ টানা তিন দিনের ছুটিতে লাখো পর্যটকের পদভারে মুখর হয়ে উঠেছে সমুদ্র আর পাহাড়ের নগরী কক্সবাজার। ছুটির প্রথম দিনেই গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহর জুড়ে ছিল দর্শনার্থীর ঢল।

গতকাল সকালে সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে হাজারো পর্যটক গা ভাসাচ্ছেন, বালিয়াড়িতে হাঁটাহাঁটি করছেন অনেকে। অনেকে দলবেঁধে গান গাইছেন। অনেকে সমুদ্র দর্শন শেষে মেরিন ড্রাইভ ধরে ছুটছেন। এত সৌন্দর্যের মধ্যে পর্যটকের মনে দাগ কেটেছে ফেরিওয়ালাদের হয়রানি, অতিরিক্ত দাম, যততত্র ময়লা আবর্জনার স্তূপ।

সিলেট থেকে বেড়াতে আসা হাসনাত বলেন, ‘কক্সবাজার সবসময় আমার প্রিয় জায়গা, সুযোগ পেলেই চলে আসি। কখনো একা, কখনো বন্ধুদের সঙ্গে। আজ এসেছি পরিবার নিয়ে।’

সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ী শামসুল আলম বললেন, ‘এখানে সবকিছুর দাম বেশি, অটোরিকশাচালকরা অল্প দূরত্বেও অনেক বেশি টাকা দাবি করে বসেন। খাবারের দাম অনেক বেশি। সৈকতে যততত্র ময়লার স্তূপ। এসব দেখার কি কেউ নেই এখানে।’

বড়দিন উপলক্ষে শহরের অভিজাত হোটেলগুলোতে ছিল নানা আয়োজন, উৎসবের আমেজ তৈরি করতে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় হোটেলগুলো। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলের প্রায় সব কক্ষই বুকিং হয়ে আছে।

হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘২৭ তারিখ পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিনের ছুটি আছে। এ ছাড়া ৩১ তারিখ বছর শেষ হতে চলেছে। বছরের শেষ সময়ে অনেক পর্যটক আসছেন, যেহেতু সমাগম বেশি সব মিলিয়ে পর্যটন ব্যবসায় শত কোটি টাকার বাণিজ্য ছাড়িয়ে যাবে।’

পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি হয়রানি প্রতিরোধে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের প্রথম এবং মুখ্য কাজ হচ্ছে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সে লক্ষ্যে নিয়মিত তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পর্যটক হয়রানি দমনে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।’

পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত হেল্পলাইন-০১৩২০১৬০০০০ নম্বরে যোগাযোগ করলে ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত