সবজির দরপতনে বিপাকে কৃষক

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৪০ এএম

এক ফসলি বোরো ধানের জন্য পরিচিত হাওরবেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধানের পাশাপাশি বেড়েছে সবজি চাষ। চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির ভালো ফলন হলেও বাজারে ব্যাপক দরপতনে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে সবজির দাম ভালো থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে উৎপাদন খরচেরও নিচে। ফলে কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে অনেক কৃষক সবজি বাজারে এনেও বিক্রি করতে পরছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সুনামগঞ্জ শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি সবজি বাজার ‘লামা বাজার’ ঘুরে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকায় করে আনা সবজি নৌকাতেই পড়ে আছে। ক্রেতা, পাইকার কম এবং আশানুরূপ দাম থাকায় কৃষকরা হতাশ।

সদর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কৃষক বাবলু মিয়া বলেন, ‘আমাদের যে টাকা ইনভেস্ট হয়েছে, সেই টাকাটাই উঠছে না। বাজারে মাল নিয়ে এসে কোনো সুবিধা হয় না। আগের মতো এখন আর পাইকার আসে না। ফুলকপি, বাঁধাকপি ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গতকাল ফুলকপি আর শিম এনে রেখেই চলে যেতে হয়েছে, বিক্রি করতে পারিনি।’

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ঝিনারপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘সবজির বাজার একেবারেই মন্দা। সকাল থেকে শিম আর বাঁধাকপি নিয়ে বসে আছি, কোনো পাইকারই মিলছে না।’

আরেক কৃষক বুলবুল মিয়া বলেন, ‘চড়া দামে সার, বীজ আর কীটনাশক কিনে অনেক কষ্টে এই ফসল উৎপাদন করেছি। এখন লাভ তো দূরের কথা, লোকসান গুনতে হচ্ছে। পাইকাররা একবার দরদাম করে আর খোঁজ নেয় না।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ শহরের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ১০ টাকা, শিম ১৫-২৫, আলু ১৫-২০, বেগুন ২৯-৩০, মূলা হালিম পাঁচ থেকে সাত, লাউ ১০ থেকে ২৫, বাঁধাকপি ১৫-২০ টাকা এবং শসা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম তুলনামূলক বেশি, কেজিপ্রতি ৫০-৭০ টাকা।

অন্যদিকে শহরের খুচরা বাজারে শিম কেজি ২৫-৪০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০, মূলা হালি ১০-২০, গাজর ৫০-৬০, টমেটো ৮০-১০০ টাকা এবং আলু ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ২০-৩০ টাকা এবং লাউ আকারভেদে ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লামা বাজার ‘সবজি বাজার সমবায় সমিতি’র সহ-সভাপতি নুর মিয়া বলেন, বর্তমানে বাজারে কৃষকরা সবজি নিয়ে এসে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। যেখানে বাঁধাকপি ও ফুলকপি প্রতি পিস পাইকারি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হতো, সেখানে মাত্র ৮ থেকে ১০ দিনের ব্যবধানে সেই দাম নেমে এসেছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। প্রায় সব ধরনের সবজির দামই অর্ধেকে নেমে গেছে। তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে বিপুল সবজি আসছে, কিন্তু সেই তুলনায় পাইকার ও ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। এতে করে কৃষকদের পাশাপাশি আমরা ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছি।’

এ বিষয়ে জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আহমদ আসিফুর রব বলেন, ‘হঠাৎ করে কেন দাম এতটা কমেছে, বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব। কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্র জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত