ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জুয়েল গ্রুপের হামলায় সাইফুল সর্দার ওরফে সাইফেল (৪৮) নামে মেম্বার গ্রুপের এক সমর্থক নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোর রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহত ব্যক্তি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিদ্যাধর-ব্রাহ্মণ জাটিগ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনায় ইসমাইল মোল্যা নামে আরেক ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে এবং পুলিশ জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিদ্যাধর-ব্রাহ্মণ জাটিগ্রামে গ্রাম্য দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছে। যার একপক্ষের নেতৃত্ব দেন ৩ নম্বর ইউপি সদস্য (মেম্বার গ্রুপের প্রধান) সৈয়দ শরীফুল ইসলাম এবং অন্যপক্ষের নেতৃত্ব দেন শাহাদাৎ হোসেন খোকন মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া (৩৮)। তাদের মধ্যে জুয়েল মিয়া একটি মামলায় কারাভোগের পর এক মাস আগে জামিনে বেরিয়ে এসেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে জুয়েল মিয়ার নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল সৈয়দ শরীফুল ইসলামের সমর্থকদের বাড়িতে অতর্কিতভাবে হামলা করে। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাইফুল সর্দার ওরফে সাইফেলসহ কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করে। পরে সাইফেলকে উদ্ধার করে পাশ্ববর্তী কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ইসমাইল মোল্যা নামে আরেক ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া একই সময়ে বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
ইউপি সদস্য সৈয়দ শরীফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘গ্রাম্য দলপাল্লা নিয়ে আমাদের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। তার জের ধরে রাতে হঠাৎ করে জুয়েলের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন সাইফেলের বাড়িতে গিয়ে হামলা করে তাকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। তারা আমার সমর্থকদের ১০ থেকে ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে।’ তবে এ বিষয়ে জুয়েল মিয়া পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে এ ঘটনায় গ্রামটিতে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনার পর সকালেই পরিদর্শন করেন পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় শফিক মিয়া ও আয়ুব মিয়া নামে জুয়েল গ্রুপের দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মেম্বার গ্রুপ ও জুয়েল গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ বর্বরতা চলছে। পাশাপাশি দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিক পাল্টাপাল্টি মামলা রয়েছে এবং মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ এই জুয়েল পলাতক ছিলেন এবং কিছুদিন আগে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হলেও এক মাস আগে জামিনে বের হয়ে এসেছেন। তার নেতৃত্বে রাত ৩টার দিকে মেম্বার গ্রুপের ওপর হামলা করা হয় বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।
