ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কনকনে ঠা-ায় মানুষ জবুথবু হয়ে পড়েছে। শীত থেকে রেহাই পেতে স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে পুরনো গরম কাপড় কেনার ধুম পড়েছে। পৌর সদরের স্টেশন সড়কের চৌরাস্তা থেকে সোনালী ব্যাংক পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে পুরনো কাপড়ের অস্থায়ী বাজার। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ফুটপাতের এসব ভ্রাম্যমাণ দোকানে ভিড় করছেন নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। এসব দোকানে সোয়েটার, জ্যাকেট, কানটুপি, মাফলার, হুডিসহ নানা ধরনের শীতের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। আকার ও মানভেদে এসব পোশাকের দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
গত চার-পাঁচ দিন ধরে ঠান্ডা তীব্র হওয়ায় গরম কাপড়ের চাহিদা এখন তুঙ্গে। মধ্য ও উচ্চবিত্তরা বিভিন্ন মার্কেটে ভিড় করলেও ফুটপাতের দোকানগুলোতেই বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে। গরম কাপড়ের জন্য এসব দোকানই নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ভরসা।
চাহিদা বেশি থাকায় এবার শীতের পোশাকের দাম কিছুটা বেশি বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় খুশি দোকানিরা।
উপজেলার গুনবহা গ্রামের বাসিন্দা এম জামান বলেন, ‘ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। তাই পুরনো গরম কাপড়ের কদর এখন অনেক।’
যমুনা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে ফুটপাতে বসা পুরনো কাপড় বিক্রেতা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে শীত বেড়েছে, তাই বেচাকেনাও ভালো।’ তবে তিনি দাবি করেন, এবার পুরনো কাপড়ের দাম তুলনামূলক কম। আরেক বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এবার শীত বেশি হলেও গরম কাপড়ের দাম বাড়েনি। গতবারের মতোই আছে। তবে ক্রেতারা কম দামে ভালো মানের কাপড় খুঁজছেন।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী আমীর চারু বাবলু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তীব্র শীতে নিম্নবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা পুরনো গরম কাপড়। অল্প টাকায় পাওয়া যায় বলেই ফুটপাতের দোকানগুলোতে কয়েক দিন ধরে উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।’
