হাড় হিম করা ঠান্ডায় জবুথবু মানুষ

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:২৩ এএম

খুলনায় গত দুই দিন ধরে ঘন কুয়াশার সঙ্গে তীব্র হিমেল হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। ফলে সড়ক ও রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। তীব্র শীতের কারণে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বিশেষ করে শ্রমিক, দিনমজুর ও ছিন্নমূল মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। তীব্র শীতে তাদের জবুথবু অবস্থা।

নগরীর বয়রা মদিনাবাগ এলাকার রিকশাচালক মিলন মোল্লা বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। যেমন কুয়াশা পড়ছে, সেইসঙ্গে তীব্র শীতে হাত-পা কাঁপছে।’

তিনি বলেন, ‘ঘরে স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। রিকশা নিয়ে না বেরোলে খাব কী? কিন্তু তীব্র শীতের কারণে গত দুই-তিন দিন বেশি যাত্রী পাচ্ছি না। ফলে আয়-রোজগার কমে গেছে।’

নগরীর সবুজ পল্লীর মেজরের মোড়ের একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন ভ্যানচালক মজিবর গাজীসহ কয়েকজন। মজিবর গাজী বলেন, ‘শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ভ্যান চালিয়েছি। আজ (গতকাল) বেশি ঠান্ডা পড়ছে। মনে হচ্ছে, শীতে হাড়ে কাঁপন ধরেছে। এ কারণে গাড়ি (ভ্যান) বের করিনি।’

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর সাতরাস্তা মোড়ে ‘মানুষ বেচাকেনা’র হাটে গিয়ে দেখা যায়, দিনমজুরের সংখ্যা খুবই কম। দু-একজন যারা বসেছিলেন, তাদেরও কেউ কাজের জন্য নিতে  আসেনি।

রমজান আলী নামের এক দিনমজুর বলেন, ‘সকাল হওয়ার আগে আইসে ঠান্ডার মধ্যি বইসে আছি, দুই-তিন ঘণ্টা চইলে গেল কেউ কিনতি আসল না। বিক্রি না হলি বাড়ি চাল নিয়ে যাতি পারব নানি।’ এদিকে খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ দেবনাথ জানান, শীতজনিত রোগে এখনো উল্লেখযোগ্য রোগী ভর্তি হয়নি। তবে শীতের প্রকোপ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে জ¦র, সর্দিসহ পানিবাহিত রোগী বাড়বে। শীতে শিশুদের প্রতি যত্নবান হওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. মিজানুর রহমান জানান, গতকাল রবিবার খুলনায় ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তবে বাতাসের কারণে শীত কিছুটা বেশি অনুভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, রাতে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত