বিটিআরসি ভবনে মোবাইল ব্যবসায়ীদের হামলা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৫ এএম

নতুন বছরের প্রথম দিন গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে চালু হয়েছে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার’ (এনইআইআর) কার্যক্রম। এর মাধ্যমে অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। এনইআইআর কার্যক্রম চালু হওয়া এখন নেটওয়ার্কে নতুন ফোন যুক্ত হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিটিআরসির সার্ভারে ঢুকে যাবে। ফোনটি অবৈধ হলে গ্রাহকের কাছে সিগন্যাল যাবে। তিন মাসের মধ্যে এটিকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

এদিকে এনইআইআর চালুর প্রতিবাদে বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা।

এনইআইআর কার্যক্রমের বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা অনুমোদিত বা অননুমোদিত কোনো হ্যান্ডসেটই বন্ধ করা হবে না। এমনকি ব্যবসায়ীদের স্টকে থাকা যেসব ফোনের আইএমইআই (শনাক্তকরণ নম্বর) তালিকা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিটিআরসিতে জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও সচল থাকবে। শুধু ১ জানুয়ারি থেকে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া সম্পূর্ণ নতুন ফোনগুলোই এনইআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে।

বিটিআরসি জানায়, প্রবাসীরা বিদেশ থেকে আসার সময় নিজেদের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি আরও দুটি নতুন হ্যান্ডসেট সঙ্গে আনতে পারবেন। এই ফোনগুলো নিবন্ধনের জন্য তারা তিন মাস সময় পাবেন। এ সময় ফোনগুলো নেটওয়ার্কে সচল থাকবে। পাসপোর্ট বা ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র ব্যবহার করে খুব সহজেই অনলাইনে এনইআইআর পোর্টালে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে। কমিশন বলছে, অবৈধ হ্যান্ডসেট রোধ, চুরি হওয়া ফোন বন্ধ এবং মোবাইল বাজারের বিশৃঙ্খলা দূর করতেই এনইআইআর চালু করা হয়েছে। কারিগরিভাবে এনইআইআর মূলত আইএমইআই, সিম নম্বর ও আইএমএসআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইবার আইডেনটিটি) এই তিনটি বিষয় যাচাই করে নেটওয়ার্ক সচল রাখে। এটি কোনো কল রেকর্ড করে না, মেসেজ পড়ে না কিংবা ইন্টারনেট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে না।

হামলা ও ভাঙচুর

এদিকে এনইআইআর চালুর প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, পুলিশ, কোস্ট গার্ড, আনসারসহ বিপুল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ওরা আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়েছে, ইটপাটকেল ছুড়েছে।

তিন মাস ধরে মোবাইল ব্যবসায়ীরা নানাভাবে এনইআইআর পদ্ধতি চালুর বিপক্ষে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। গতকাল এনইআইআর চালুর খবর পেয়ে বেলা ৩টা থেকে বিটিরআরসির সামনে জড়ো হতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। একপর্যায়ে তারা বিটিরআরসি ভবনে ইট, পাটকেল ও পাথর ছুড়ে হামলা চালায়। এতে ভবনটির সামনের অংশের জানালার কাচ ভেঙে যায়। পরে তারা ভবনের নিচতলায়ও ভাঙচুর চালায়।

বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, হামলায় ভবনের প্রথম ও দোতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় ভবনের ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আটকা পড়েন এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা বলেন, এনইআইআর পদ্ধতি চালু করা হয়েছে মূলত সাধারণ মোবাইল গ্রাহকদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা, সুলভমূল্যে গুণগত মানসম্পন্ন হ্যান্ডসেটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদন উৎসাহিত করার জন্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত