চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে শীর্ষ ব্যবসায়ী স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসভবন লক্ষ্য করে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীরা গুলি ছুড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে নগরের চন্দনপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। গোলাগুলির সময় ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা বাসায় ছিলেন। তবে এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া আজ রাত ৯টার দিকে বলেন, ‘সকাল সাতটার দিকে মাইক্রোবাসে করে এসে আটজনের একটি মুখোশ পরা সন্ত্রাসী দল মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে পিস্তল উঁচিয়ে বাড়ির গেটে ও পেছনে কয়েকটি ফায়ার করে চলে যায়। বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীরা এ ঘটনায় জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে দুবাইভিত্তিক একটি নম্বর থেকে ফোন করে মুজিবুর রহমানের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাসার লোকজন কাউকে বলেননি।’
স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান আজ রাতে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘মাস দেড়েক আগে বড় সাজ্জাদ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি একটি বিদেশি নম্বর থেকে আমাকে ফোন করে টাকা দাবি করেন। বিষয়টি ওই সময় আমি আমলে নেইনি। আজ ঘটনার সময় আমি ঘুমিয়ে ছিলাম।’
পুলিশ জানায়, চাঁদা না পেলেই গুলি করেন সাজ্জাদের অনুসারীরা। চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী, রাউজানসহ পাঁচ থানার ৫ লাখের বেশি মানুষকে সাজ্জাদের বাহিনীর কারণে রীতিমতো আতঙ্কে থাকতে হয়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে জেলায় ১০টি খুনে সাজ্জাদের অনুসারীদের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে একটি রয়েছে জোড়া খুন।
এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর পাঁচলাইশ হামজারবাগ এলাকায় এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের মালিকের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র–গুলিসহ মো. দিদার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায়ও সাজ্জাদের লোকজন জড়িত বলে ধারণা পুলিশের।
প্রসঙ্গত, মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। স্মার্ট গ্রুপ একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী। মুজিবুর রহমানের পোশাক, টেক্সটাইল, রিয়েল এস্টেট, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ রয়েছে।
