শরীয়তপুরের তিনটি সংসদীয় আসনে ১০জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। যাচাই–বাছাইয়ে ১৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ২৯ জন।
আজ শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শরীয়তপুর-৩ আসনের যাচাই–বাছাই শেষে জেলার তিনটি আসনের বিষয়ে এ সব তথ্য জানান শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তাহসিনা বেগম।
এ সময় জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে ৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রাপ্ত এক ভাগ ভোটার তালিকার মধ্যে কতিপয় তথ্য সঠিক না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ব্যাংক হিসাব পুরানো ও দাখিলকৃত ব্যাংক স্লিপের সাথে মিল না থাকায় বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি নুর মোহাম্মদ মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। এ আসনে বাকি ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জালালুদ্দীন আহমদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মো. তোফায়েল আহমেদ, গনঅধিকার পরিষদ ফিরোজ আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মো. মোশারফ হোসেন, নাগরিক পার্টি মো. আব্দুর রহমান।
শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে ১০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে প্রাপ্ত এক ভাগ ভোটার তালিকার মধ্যে কতিপয় তথ্য সঠিক না পাওয়ায় স্বতন্ত্র ফারহানা কাদির রহমান, মো. আলমগীর হোসেন, মো. নাসির, নতুন ব্যাংক হিসাবের প্রমাণক দাখিল না করায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইমরান হোসেন, ব্যাংক হিসাব পুরনো হওয়ায় গনঅধিকার পরিষদ আখতারুজ্জামান সম্রাট, জনতার দল পারভেজ মোশারফের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। এ আসনে বাকি ৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. সফিকুর রহমান (কিরন), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাহমুদ হোসেন, জাতীয় পার্টি জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মাহমুদুল হাসান।
শরীয়তপুর-৩ (ভেদরগঞ্জ-ডামুড্যা-গোসাইরহাট) আসনে ৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। ব্যাংক হিসাব পুরনো হওয়ায় জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল হান্নানের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। এ আসনে বাকি ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সচিব (পিএস) মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হানিফ মিয়া, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মোহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া শরীয়তপুর-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী ইমরান হোসেন বলেন, দাখিল করা মনোনয়নে আমি আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যে শুরুর দিনটি উল্লেখ না করায় আমার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। তবে আমি এ বিষয়ে আপিল করবো।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাহসিনা বেগম বলেন, শরীয়তপুরের তিনটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ২৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বাছাইয়ে ১০জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বাছাই শেষে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
