সাবেক মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী সেনা কর্মকর্তা স্বতন্ত্রের চতুর্মুখী লড়াই

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৮ এএম

এবারের নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখানে বিএনপি থেকে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক, জামায়াতে ইসলামী থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের শ্যালক কর্নেল (অব.) জেহাদ খান, স্বতন্ত্র হিসেবে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু প্রার্থী হয়েছেন। তবে ৫ আগস্টের পর একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু বর্তমানে কিছুটা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। এদিকে বিএনপির মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনে শক্ত প্রার্থী হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

বিএনপি মনোনীত সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান ড. এম ওসমান ফারুক ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়ে শিক্ষামন্ত্রী হয়েছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার ফলে তাকে দেশত্যাগ করতে হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে আট বছর কাটানোর পর তিনি দেশে ফিরে এখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তবে এ আসনে বিএনপিতে এবার বড় একটি ফাটল দেখা দিয়েছে। এবার জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপির দুঃসময়ে এ আসনে থেকে তিনি ধানের শীষের নির্বাচনও করেছিলেন, যার ফলে এ আসনে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তিনি এবার দল থেকে মনোনয়ন পাননি। তাই স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করছেন। তার হাতে এ আসনের দক্ষিণ অঞ্চলের বড় একটা ভোট ব্যাংক রয়েছে। এ বিরোধ শেষ না হলে বিএনপি প্রার্থী বিপাকে পড়তে পারেন। এছাড়াও করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দুলাল সিকদারসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে তৃণমূল নেতাকর্মী ও ভোটাররা বিভিন্ন অপকর্মের জন্য একদমই পছন্দ করেন না। কারণ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দুলালসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সালিশ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। তাকে ড. ওসমান ফারুকের সঙ্গে দেখলেই ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এর ফলে ভোটের অঙ্কের হিসাব এবার উল্টা-পাল্টা হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের শ্যালক জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) জেহাদ খান পেশায় একজন চিকিৎসক হওয়ায় এলাকাবাসীর সুনজরে রয়েছেন। তাছাড়া তিনি ৫ আগস্টের পর থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি ইউনিয়নে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা করে ভোটারদের মন জয় করে যাচ্ছেন। ভোটাররাও তার প্রতি বড় একটা ভরসা রেখে অন্যদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। এর ফলে তিনিও চতুর্মুখী লড়াইয়ের হিসাব দেখছেন।

অন্যদিকে এ আসনের সাবেক সাংসদ জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব ও শ্রম ও কর্ম-সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর একটা বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। তবে এবার মার্কা পরিবর্তনের কারণে তিনি আগের মতো গণহারে ভোট নাও পেতে পারেন। তবে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভোট যে তিনি পাবেন তা ভোটারদের অনেকেই স্বীকার করছেন। সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে চার প্রার্থীর ভোটের মাঠে চতুর্মুখী লড়াই হবে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত