গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৫ আগস্টে সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগ নেতাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা গা ঢাকা দিলেও যুবলীগের সভাপতি, হত্যা মামলার আসামি আটাবহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন শাকিল মোল্লা অদৃশ্য ক্ষমতাবলে এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন।
এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইউপি নির্বাচনে কালিয়াকৈর উপজেলার প্রায় ৯টিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতারা। কিন্তু জুলাই ছাত্র আন্দোলনে সরকার পতন ও আন্দোলনকারী হত্যাকাণ্ডে মামলার আসামি হওয়ার পর গা ঢাকা দেন প্রায় সব ইউপি চেয়ারম্যান। পরে ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৬টিতে প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর। অদৃশ্য কারণে বাকি তিনটিতে ইউপি চেয়ারম্যান বহাল রাখা হয়। এর মধ্যে আটাবহ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন শাকিল মোল্লা তিনটি হত্যা মামলার আসামি। মাত্র ৪৫ দিনের জন্য অস্থায়ী জামিনে আসে এসে তিনি ইউনিয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু জামিনের ওই নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে তিনি গা ঢাকা দেন। মাঝে মধ্যে পরিষদে এলেও কিছুক্ষণ অফিসে থেকে চলে যান। এসময় তিনি সরকারি বিভিন্ন নথি সঙ্গে করে যান ও স্বাক্ষর করে পরে সেগুলো শ্যালক বাবু মাধ্যমে অফিসে পাঠিয়ে দেন। যার কারণে পরিষদের এসব নথিপত্র গোপন তথ্য বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ইউপি সদস্যরাসহ স্থানীয় মহল।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের ৭৮ লাখ টাকা ও ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ৪০ লাখ টাকা বরাদ্ধের বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইলও উধা হয়ে গেছে। ইচ্ছামতো প্রকল্পের সভাপতি বানানো, কিছু প্রকল্প শেষ না করেই টাকা তুলে পকেটে ভরা, ইউপি সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এক কথায় ইউনিয়ন পরিষদকে জিম্মি করে রেখেছেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন ইউপি সদস্যসহ ভুক্তভোগী লোকজন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত সাপেক্ষে ওই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে পরিষদে প্রাণ ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়নবাসী।
সরকারি গোপন নথিপত্র বহনের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত বাবু জানান, ফাইল বহন করবো কেন? আমি মাঝে মধ্যে ভাই (চেয়ারম্যান) নিয়ে গেলে যাই। কতক্ষণ থেকে চলে আসি।
১নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ফজলুল হক বলেন, আমাদের চেয়ারম্যানের নামে হত্যা মামলা থাকায় তিনি অনেক দিন যাবৎ নিয়মিত অফিস করেন না। তবে মাঝে মধ্যে অল্প সময়ের জন্য অফিসে এসে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এছাড়াও কাজ না করেই টাকা তুলেছেন তিনি। এসব কারণে পরিষদের কার্যক্রমে ভাটা চলছে।
এছাড়া চেয়ারম্যানের শ্যালক বাবু সরকারি নথিপত্র বহনের বিষয়ে পরিষদের সচিব নজরুল ইসলাম জানান, তিনি নিয়োগ প্রাপ্ত নন। কিন্তু তিনি মাঝে মধ্যে নথিপত্র নিয়ে যান। আর আমি এখানে নতুন এসে পরিষদে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বরাদ্ধের ফাইল পাইনি।
অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন শাকিল মোল্লা জানান, এসব অভিযোগ মিথ্যা ভিত্তিহীন। আমার নামে তিনটি হত্যা মামলা থাকলেও আমি জামিনে আছি। আর নিয়মিত অফিস এবং দায়িত্ব পালন করছি। আর প্রয়োজনের ক্ষেত্রে দু-একবার বাবু ফাইল নিতে পারেন।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, এসব বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এছাড়াও প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে সত্যতা পেলে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সরকারি নথিপত্র অন্যকারো বহন করার সুযোগ নেই। এমন হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
