সুনামগঞ্জের শাল্লায় হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে ধীরগতি

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে চরম ধীরগতি ও পাউবো কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যে অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী হাওরে কৃষকদের বোরো জমির ধান রক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়ে হাওর ফসল রক্ষা বাধেঁর কাজ শুরু করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত উপজেলার মোট ১২৬টি পিআইসি প্রকল্পের মধ্যে ১২৪ টি বাধেঁর কাজ শুরুই হয়নি। অথচ গত ১৫ ডিসেম্বর এই অঞ্চলে একযোগে ১২ উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সেময় বলা হয়েছিল  ১৫ই ফেব্রুয়ারীর মধ্যে শেষ করার কথা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ফলে আগাম বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটছে হাওরপাড়ের কৃষকদের। 

রবিবার (৪ জানুয়ারী) সরেজমিনে বাধেঁর কাজ পরিদর্শনে গিয়ে এবং পিআইসি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর নামমাত্র ১টি এবং ৪ জানুযারী বরাম হাওর উপ-প্রকল্পের ৪০নং পিআইসির উদ্বোধন করা হয়েছে। বাকি ১২৪টি প্রকল্পের কোনটিতেই মাটিকাটার কাজ শুরু হয়নি। এমনকি অনেক প্রকল্পে এখনও পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন প্রক্রিয়া পর্যন্ত শেষ হয়নি। 

পাউবো’র শাল্লা শাখা কর্মকর্তা ওবায়দুল রহমান দাবি করেছেন, ১০টি প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে এবং বরাম হাওরের পাঠাখাউরি প্রকল্পসহ সবগুলোতে কাজ চলছে। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছেন বরাম হাওরের ৪০নং প্রকল্পের সভাপতি শৈলেন দাস ও সদস্য সচিব লোকেশ দাস। তারা জানান, ৪ জানুযারী কেবল তাদের প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে এবং এটি ছাড়া বরাম হাওরে আর কোনো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। 

এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, মাঠের কাজের চেয়ে কাগজে-কলমে কাজ দেখাতে ব্যস্ত শাখা কর্মকর্তা (এসও)। ভান্ডাবিল হাওর উপ-প্রকল্পের ২৭নং পিআইসির সভাপতি কালাবাসী দাস অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে কাজ অসমাপ্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, শুরুতে যে পরিমাণ জায়গার কথা বলা হয়েছিল, এখন তার চেয়ে কয়েকশ মিটার বেশি কাজ করতে বলা হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার ভয়ে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এতে বাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে আরও বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে শাল্লা উপজেলার ৬টি হাওরে ৮৬ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত ও ভাঙা বন্ধকরণের জন্য ২৯ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই কাজ বাস্তবায়নের জন্য ১২৬টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে সব কাজ শেষ করার কথা থাকলেও জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পার হতে চলেছে অথচ দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সচেতন সমাজ ও কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা কাবিটা স্কিম প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সব প্রকল্পের কাজ শুরু করব। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত