পরিষদে অনিয়মিত ইউপি চেয়ারম্যান, ভোগান্তি

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৮ এএম

আওয়ামী সরকার পতনের পর গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গা-ঢাকা দিয়েছেন হত্যা মামলার আসামি বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। এতে স্থবির হয়ে পড়ে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কার্যক্রম। পরে ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৬টিতে প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর। অদৃশ্য কারণে বাকি তিনটিতে ইউপি চেয়ারম্যান বহাল রাখা হয়। এর মধ্যে আটাবহ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন শাকিল মোল্লা তিনটি হত্যা মামলার আসামি। তিনি গা-ঢাকা থাকা অবস্থায় মাত্র ৪৫ দিনের জন্য অস্থায়ী জামিনে আসেন। কিন্তু জামিনের ওই নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে তিনি আবার গা-ঢাকা দেন। মাঝেমধ্যে পরিষদে এলেও কিছুক্ষণ অফিসে থেকে তড়িঘড়ি করে আবার গা-ঢাকা দেন। এ সুযোগে পরিষদ থেকে তার বাড়ি বা গা-ঢাকাস্থলে গোপনে সরকারি বিভিন্ন নথিপত্র নিয়ে যান ও স্বাক্ষর করে নিয়ে আসেন বাবু নামে চেয়ারম্যানের এক শ্যালক। এ কারণে পরিষদের গোপন নথিপত্র বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ইউপি সদস্যরাসহ অনেকেই।

এদিকে তিনি পরিষদে অনিয়মিত থাকায় পরিষদের কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন নাগরিকত্ব সনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ারিশিয়ান সনদ জরুরি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। উধাও হয়ে গেছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৭৮ লাখ টাকা ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দের বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইলও। এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত ও মৌখিক একাধিক অভিযোগ দিয়েছেন একাধিক ইউপি সদস্যসহ ভুক্তভোগী লোকজন।

আটাবহ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফজলুল হক বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যানের নামে হত্যা মামলা থাকায় তিনি অনেক দিন যাবৎ নিয়মিত অফিস করেন না। বিভিন্ন সময় তিনি আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এ ছাড়া কাজ না করেই টাকা তুলেছেন তিনি। এসব কারণে পরিষদের কার্যক্রমে ভাটা চলছে।’

অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি অস্বীকার করে আটাবহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন শাকিল মোল্লা বলেন, ‘এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমার নামে তিনটি হত্যা মামলা থাকলেও আমি জামিনে আছি। আর নিয়মিত অফিস এবং দায়িত্ব পালন করছি।’ এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল হোসাইন জানান, এসব বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। এ ছাড়া প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে সত্যতা পেলে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত