মাদুরোর পরে আরও যেসব দেশ ট্রাম্পের নজরে

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এসময় ১৮২৩ সালের মনরো নীতির নতুন ব্যাখ্যা তুলে ধরে (যাকে তিনি “ডনরো ডকট্রিন” নামে অভিহিত করেছেন) এই অভিযানের যৌক্তিকতা দেখান। এদিকে ভেনিজুয়েলার পর আরও কয়েকটি দেশকে একই পরিণতির হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে তিনি যেসব দেশকে হুমকি দিয়েছেন, সেসব নিয়ে কিছু আলোচনা তুলে ধরা হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে গ্রিনল্যান্ডে। যার নাম পিটুফিক স্পেস বেস। কিন্তু ট্রাম্প চান পুরো দ্বীপটি। এর আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। বিরল খনিজ সমৃদ্ধ এই দ্বীপটির প্রস্তাব দিলে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন ট্রাম্পের প্রস্তাবকে 'কল্পনা' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ডেনমার্কের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ডিআর-কে বলেছেন, আমি স্পষ্ট করে জানিয়েছি ডেনমার্ক রাজ্যের অবস্থান কোথায় এবং গ্রিনল্যান্ড বারবার বলেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না।

এর আগে মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, মাদক সন্ত্রাস নিয়ে ভেনেজুয়েলাকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তায় কোনও কাজ হয়নি। ফলে মাদক সন্ত্রাসকে রুখতে এই দেশের বিরুদ্ধে বড় কিছু করার প্রয়োজন ছিল।

তারপরই মাদুরোর পরিস্থিতির কথা টেনে এই একই বিষয় নিয়ে আরও তিন দেশ— মেক্সিকো, কলম্বিয়া এবং কিউবাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মাদক সন্ত্রাসকে রুখতে যদি ওই অঞ্চলে আমেরিকাকে পা রাখতে হয়, প্রয়োজনে সেটাও করতে প্রস্তুত। আর এর জন্য কারও চোখরাঙানিও মেনে নেব না।

অর্থাৎ ট্রাম্পের নজরে রয়েছে মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবা। এর আগে ২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার সময় ট্রাম্পের প্রচারণার মূল স্লোগান ছিল মেক্সিকো সীমান্তে 'দেয়াল নির্মাণ'। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্টের অফিসে ফেরার প্রথম দিনেই তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে 'আমেরিকা উপসাগর' করার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এদিকে গত রবিবার ট্রাম্প বলেন, মেক্সিকো দিয়ে মাদক "উপচে পড়ছে" এবং "আমাদের কিছু করতে হবে," সঙ্গে যোগ করেন যে সেখানকার কার্টেলগুলো "খুব শক্তিশালী"।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে কলম্বিয়ার নামও আছে। ভেনেজুয়েলায় অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করে তার "নিজের দিকে খেয়াল" রাখতে বলেছেন। এর মধ্যে গত রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়া এক অসুস্থ মানুষের হাতে চলছে, যে কোকেন বানাতে ও তা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করে।  ‘সে খুব বেশি দিন এটা করতে পারবে না,’ তিনি বলেন। কলম্বিয়াকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অভিযান চালাবে কি না—এ প্রশ্নে ট্রাম্পের জবাব ছিল, "আমার কাছে ভালোই শোনাচ্ছে"।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে কিউবাও রয়েছে। দ্বীপরাষ্ট্রটি ১৯৬০-এর দশকের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। এটি নিকোলাস মাদুরোর ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে দেশটির অর্থনীতি ভেঙে পড়ার কাছাকাছি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। রবিবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই, কারণ কিউবা "পতনের মুখে"।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত