নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) থেকে সৃষ্ট নৈরাজ্য ও বিভাজনের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন: ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা প্রসঙ্গ’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও লিঙ্গভিত্তিক বিদ্বেষমূলক পোস্ট এবং ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য গুরুতর হুমকি। তবে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট সচেতন বা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে না।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যে ছোটখাট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোও কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক তথ্য, সংখ্যালঘুদের বিরোধী অপপ্রচার ও প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভুয়া সংবাদ নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনও উদ্যোগ নেই।’

সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্য আলোচকরা বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে নীতিগত অস্পষ্টতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, ডিজিটাল বৈষম্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি রয়েছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, সরকারের মেটাকে চিঠি দেওয়ার পদক্ষেপ একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এটি যথেষ্ট নয়। 

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মেটার অফিস নেই, ভাষাগত সীমাবদ্ধতাও আছে। রাজনৈতিক সহিংসতা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার সুযোগও দিতে পারত, যেমন ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্রের তথ্য ও ভোট গণনার স্বচ্ছতা। কিন্তু এ সুযোগও ব্যবহার করা হচ্ছে না। 

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সতর্ক করেন, যদি নাগরিকদের উদ্বেগ ও জবাবদিহি প্রক্রিয়া শক্তিশালী না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেশ, অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য কল্যাণকর নয়। ‘দেশ সহিষ্ণুতা ও সহমর্মিতার কথা বললেও বাস্তবে আমরা অনেকটা পেছনে সরে যাচ্ছি। সংকটগুলো সমাধান না হলে নির্বাচন হলেও সত্যিকারের স্বাধীনতা পাওয়া কঠিন হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত