ফেনীর আদালতে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানির অভিযোগে স্বামী শহীদুল্লাহ ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তারকে তিন বছর ছয় মাস করে সশ্রম কারাদ- ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক মাস কারাদ- ভোগ করতে হবে।
গত সোমবার ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএনএম মোরশেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, ২০২২ সালের ২৩ মে আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন নাজমা আক্তার। মামলায় তিনি দাবি করেন, ধর্ষণের ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত করে সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
নাজমা আক্তার ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল সিআইডিকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। সিআইডি তদন্ত করেও অভিযোগের সত্যতা পায়নি। এরপর আবারও নারাজি দাখিল হলে আদালত ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।
ডিএনএ প্রতিবেদনে অভিযুক্ত আসামির সঙ্গে নবজাতকের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। বরং নাজমা আক্তারের স্বামী শহীদুল্লাহর সঙ্গে শিশুটির ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল আব্দুর রহমানকে অব্যাহতি দেন এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এরপর ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাদীপক্ষের দুজন ও আসামিপক্ষের পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত নাজমা আক্তার ও তার স্বামী শহীদুল্লাহকে দোষী সাব্যস্ত করেন। শিশু সন্তানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত গুরুদ-ের পরিবর্তে লঘুদন্ড হিসেবে উভয়কে তিন বছর ছয় মাস করে সশ্রম কারাদ- এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাস করে কারাদন্ডের আদেশ দেয়।
মামলায় রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহাবুদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান, খালেদ মো. আরিফ ও আহসান কবির বেঙ্গল। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ কায়কোবাদ।
