‘রক অ্যান্ড রোল’ সম্রাট এলভিস প্রিসলির জন্মদিন আজ

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

আজ ৮ জানুয়ারি ‘রক অ্যান্ড রোল ’ সম্রাট এলভিস অ্যারন প্রিসলি জন্মদিন। ১৯৩৫ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য মিসিসিপির টুপেলো শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাকে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাবা ভার্নন প্রিসলি ও মা গ্লাডিস প্রিসলি। 

ছোটবেলা থেকেই এলভিস মায়ের কাছেই বেশি সময় কাটাতে পছন্দ করতেন। বেশ ধার্মিক পরিবারে জন্ম নেয়া এলভিস ছোটবেলা থেকেই চার্চে যাতায়াত করতেন। আর সে সুবাদে গীর্জার প্রার্থনাগীত তার মন কেড়েছিল। স্থানীয় গীর্জার গায়ক দলের সঙ্গে প্রার্থনাগীত গাওয়ার মধ্য দিয়েই তার সঙ্গীত জীবনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সঙ্গীতের প্রতি প্রেমটা জন্মেছিল সেখান থেকেই।

এলভিসের একাদশ জন্মদিনের উপহারই মূলত বদলে দেয় তার ভবিষ্যৎ জীবন। এবং শতাব্দীর অন্যতম সেরা একজন মিউজিক আইকন পায় বিশ্ববাসী। তার আংকেল জনি’র (স্মিথ নামেও পরিচিত) সাহায্য নিয়ে তার বাবা-মা তাকে একটি গিটার উপহার দেন। গিটারের কিছুই জানতেন না তখন তিনি। পরে চার্চের ধর্মযাজক ফ্রাঙ্ক স্মিথের সাহচর্যে গিটারের কিছু মৌলিক কর্ড শিখে নেন তিনি। এরপর নিজেই লেগে পড়েন নিজেকে গিটার শেখানোর কাজে। পাশাপাশি টুপেলো শহরে অনুষ্ঠিত বেশ কিছু ট্যালেন্ট শো’তেও অংশগ্রহণ করেন তিনি।

১৯৪৮ সালে প্রিসলি পরিবার টুপেলো ছেড়ে চলে আসে টেনেসির মেমফিস শহরে। তখন এলভিসের বয়স মাত্র ১৩ বছর। কাউন্টি মিউজিক আর পপ মিউজিকের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে প্রিসলির। পাশাপাশি ঐতিহাসিক মেমফিস শহরের এক তরুণ হিসেবে রাইমস অ্যান্ড ব্লুজ ধারার গানগুলোকে আত্মস্থ করে নিয়েছিলেন। মেমফিসের বিভিন্ন ট্যালেন্ট শো’তে করতে থাকায় তার আগ্রহের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে মেমফিসেরই হিউমস হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত ট্যালেন্ট শো জিতে নেন। পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনার পাট চুকান তিনি।  তিনি ১৯৫৪ সালে সান রেকর্ডসে প্রযোজক স্যাম ফিলিপসের সঙ্গে তার সঙ্গীত জীবন শুরু করেন।

পঞ্চাশের দশকটা যেন ছিল এলভিস প্রিসলির জন্যই। একে একে দারুণ সব হিট গান শ্রোতাদের উপহার দিতে থাকেন তিনি। ‘হাউন্ড ডগ (১৯৫৬)’, ‘ডোন্ট বি ক্রুয়েল (১৯৫৬)’, ‘ব্লু শ্যুয়েড স্যুজ (১৯৫৬)’, ‘লাভ মি টেন্ডার (১৯৫৬)’, ‘অল শুক আপ (১৯৫৭)’ এবং ‘জেলহাউজ রক (১৯৫৭)’; পুরো দশকটা জুড়েই এমন সব দুর্দান্ত গান উপহার দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি ষাটের দশকটার শুরুটাও হয়েছিল তার ‘ইট’স নাও অর নেভার’ এবং ‘আর ইউ লোনসাম টুনাইট’ গানগুলো দিয়ে। সেই সময় তার গায়ে ‘লিভিং লেজেন্ড’-এর তকমা লেগেছিল।

১৯৫৬ সালের নভেম্বরে, প্রেসলি  ‘লাভ মি টেন্ডার’  চলচ্চিত্রে অভিষেক করেন । ১৯৫৮ সালে সামরিক বাহিনীতে যোগদানের পর , তিনি দুই বছর পর তার সবচেয়ে সফল কিছু কাজের মাধ্যমে তার রেকর্ডিং ক্যারিয়ার পুনরায় শুরু করেন।

১৯২০ থেকে ৩০ দশকের দিকে ব্লুজ-কান্ট্রি মিউজিক জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। আর রক অ্যান্ড রোল নামকরণই হয় পঞ্চাশ দশকের মাঝামাঝিতে।

এলভিস প্রিসলি একাধারে সঙ্গীতশিল্পী, চলচ্চিত্র অভিনেতা, টিভি শো পারফর্মার এবং স্টেজ শো বা লাইভ কনসার্টে দর্শকদের মাতানোতে এলভিস প্রিসলির দারুণ দক্ষতা ছিল। আর তাই জনপ্রিয়তা জেঁকে ধরেছিল তাকে। বিশ্বব্যাপী হিসেবে তার রেকর্ড বিক্রির সংখ্যা প্রায় ১ বিলিয়ন। পুরো আমেরিকা জুড়ে তার সর্বমোট ১৩১টি অ্যালবাম ও একক গান যথাক্রমে গোল্ড, প্লাটিনাম এবং মাল্টি-প্লাটিনামের খেতাব অর্জন করেছে, যা একজন রক সঙ্গীতশিল্পীর জন্য ইতিহাসই বটে। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস থেকে তিনি পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা।

১৯৭৭ সালের ১৬ আগস্ট মাত্র ৪২ বছর বয়সে টেনেসির মেমফিসে তার গ্রেসল্যান্ড প্রাসাদে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এলভিস প্রিসলি। যার মূল কারণ ছিল দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তি এবং উচ্চ রক্তচাপ। যদিও প্রাথমিকভাবে হার্ট অ্যাটাক বলা হয়েছিল,  তবে ময়নাতদন্তে তার রক্তে ১৪টি ভিন্ন ওষুধের উপস্থিতি ধরা পড়ে, যা তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়, বিশেষত অতিরিক্ত ব্যথানাশক ও ঘুমের ওষুধের প্রভাবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত