ভেনেজুয়েলায় হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ করা কি সম্ভব?

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে বিতর্কের যেন শেষ নেই। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরটি এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চলছে তীব্র অস্থিরতা। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় নেওয়া একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এই প্রেক্ষাপটকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

ডেমোক্র্যাট-প্রধান শহরগুলোতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন, অভিবাসন সংস্থার কড়াকড়ি অভিযান, ১৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ইরান ও ভেনেজুয়েলায় সামরিক আগ্রাসনের মতো ঘটনাগুলো ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সেই প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

এই প্রেক্ষাপটে কিছু মহল থেকে দাবি উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব কেড়ে নেওয়া হোক। যুক্তি হিসেবে তারা রাশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরছে। ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বহিষ্কার করেছিল ফিফা। তবে স্প্যানিশ দৈনিক ‘দিয়ারিও এএসের’ বলছে, ফিফার গঠনতন্ত্রে এমন কোনো স্পষ্ট বিধান নেই, যার মাধ্যমে কোনো রাষ্ট্র অন্য একটি দেশে হামলা চালালে বা বিদেশি সরকারপ্রধানকে আটক করলে সংশ্লিষ্ট দেশের ওপর শাস্তি আরোপ করা যায়।

ফিফার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রযোজ্য হয় কেবল সদস্য ফুটবল সংস্থার ওপর, রাষ্ট্রের ওপর নয়। গঠনতন্ত্রের তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘ফিফা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার সম্মান ও সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’। তবে ১৬ ও ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কথা বলা হয়েছে, সেটা শুধুই ক্রীড়া সংস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সে দেশের সরকারের ক্ষেত্রে নয়। ফিফার শৃঙ্খলাবিধিতেও সামরিক আগ্রাসন বা আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে কোনো বিধান নেই। সেখানে মূলত বৈষম্য ও প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত।

তাহলে রাশিয়ার ক্ষেত্রে কীভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল? ইউক্রেনে হামলার পর ফিফা ও ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা যৌথভাবে একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের যুক্তি ছিল, যুদ্ধের ফলে আরোপিত আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার স্বাভাবিকতা ও নিরপেক্ষতাকে বিঘ্নিত করতে পারে। এই পরিস্থিতিকে তারা ‘ফোর্স মাজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করে নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে।

পরবর্তীতে রাশিয়ার ফুটবল সংস্থার করা আপিল আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সালিশ আদালতে খারিজ হলে সেই সিদ্ধান্ত বৈধতা পায়। তাই ২০২২-এর পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও খেলতে পারছে না রাশিয়া। প্রশ্ন আসতে পারে, রাশিয়াকে যেভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে কেন নিষিদ্ধ করছে না ফিফা? সহজ কথায় বললে, নিষেধাজ্ঞার সময় রাশিয়া কোনো টুর্নামেন্টের আয়োজক ছিল না। তাদের কাছ থেকে আয়োজক স্বত্ব কেড়ে নেওয়ার কোনো বিষয়ই ছিল না।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি নেই। রাশিয়ার মতো নিরাপত্তাঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্রে নেই। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র প্রভাবশালী দেশ হওয়ায় অন্য কোনো দেশ চাপ প্রয়োগ করতে পারছে না। রাশিয়ার ক্ষেত্রে এর উল্টোটাই হয়েছিল। ইউক্রেনে হামলার পরপরই ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করতে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেছিল। তাছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর গভীর বন্ধুত্ব আছে। তাই ফিফাও যে স্বতোঃপ্রণোদিত হয়ে কোনো উদ্যোগ নেবে না- সেটা বলে দেওয় কঠিন কিছু নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত