শিরোপায় নতুন বছর শুরু পিএসজির

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৪ এএম

২০২৫ সালে ঐতিহাসিক ‘সেক্সটুপল’ (এক বছরে ছয়টি শিরোপা) জয়ের পর ২০২৬ সালের শুরুটাও রাজকীয়ভাবে করল প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। কয়েত সিটিতে গত বৃহস্পতিবার এক শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অলিম্পিক মার্শেইকে টাইব্রেকারে হারিয়ে রেকর্ড ১৪তম বারের মতো ফ্রেঞ্চ সুপার কাপের শিরোপা জিতল লুইস এনরিকের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শুরু হয়। সপ্তম মিনিটে মার্শেইর লিওনার্দো বালের্দির একটি নিশ্চিত হেড রুখে দিয়ে পিএসজিকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক লুকাস শেভালিয়া। এর কিছুক্ষণ পরেই ১৩ মিনিটে বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান ডেম্বেলে ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে এক অসাধারণ লব শটে মার্শেই গোলরক্ষককে পরাস্ত করে পিএসজিকে লিড এনে দেন।

এক গোলে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি রবার্তো ডি জার্বির শিষ্যরা। ২০১০ সালের পর প্রথম শিরোপার খোঁজে থাকা মার্শেই একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকেন। মেসন গ্রিনউড ও টিমোথি উইয়াহর প্রচেষ্টাগুলো প্রথমার্ধে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় তারা।

ম্যাচের ৭০ মিনিটের পর খেলা রূপ নেয় চরম উত্তেজনায়। ৭৪ মিনিটে বক্সে গ্রিনউডকে ফাউল করেন শেভালিয়া, আর সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে মার্সেইকে সমতায় ফেরান মেসন গ্রিনউড। সমতায় ফেরার পর মার্শেই আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ৮৭ মিনিটে হামেদ ত্রাওরের একটি ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন পিএসজি ডিফেন্ডার উইলিয়ান পাচো। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে মার্শেই যখন জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন গনসালো রামোস।

ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে (৯৫ মিনিট) ব্র্যাডলি বারকোলার হেড থেকে পাওয়া বল জালে জড়ান বদলি হিসেবে নামা গনসালো রামোস। ২-২ সমতায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।

টাইব্রেকারে পিএসজির গোলরক্ষক লুকাস শেভালিয়া অদম্য হয়ে ওঠেন। তিনি মার্শেইর ম্যাট ও’রাইলি এবং হামেদ ত্রাওরের শট রুখে দিয়ে খলনায়ক থেকে নায়কে পরিণত হন। পিএসজির পক্ষে রামোস, ভিতিনহা, নুনো মেন্দেজস এবং সবশেষে ডেজিরে দুয়ে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচ শেষে পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে তার দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘সবসময় সেরাটা না খেলেও জেতা যায়, আজ আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি। আমাদের গোলরক্ষক অসাধারণ ছিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত