ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দিতে বাস, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বাসে আগুন লেগে দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছে। একই ঘটনায় আহত হয় ২৬ জন। নিহতরা হলো মোটরসাইকেলের চালক দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের পেন্নাই (পলুদ্দিপাড়) গ্রামের শামীম (৪১) ও তার ছেলে নাদিম (৬) এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার মাঝেরচর গ্রামের হোসাইন (২) ও চল্লিশোর্ধ্ব অজ্ঞাতপরিচয় নারী। গতকাল শুক্রবার দুপুরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার বানিয়াপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও সিরাজদীখানে পৃথক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনায় বাস দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।
এ ছাড়া গতকাল বিকেলে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে মাহিন্দ্রাচাপায় সুরাইয়া (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুর্ঘটনায় নিহত হোসাইনের বাবা বাসযাত্রী মো. সুমন বলেন, স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে (১৬ মাস) নিয়ে মোগড়াপাড়া থেকে ফেনী যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসে ওঠেন
তারা। গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীর জন্য বাসটি অনেকক্ষণ দেরি করে। এতে বাসযাত্রীরা চালকের সঙ্গে তর্কে জড়ায়। ক্ষুব্ধ হয়ে চালক বাসটি বেপরোয়া চালাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি ট্রাক ওভারটেক করতে গিয়ে বাইক ও অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে বাস উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায়। এ সময় স্ত্রী ও তিনি বের হতে পারলেও ছেলেকে বের করতে পারেননি। সে দগ্ধ হয়ে মারা যায়। খবর পেয়ে দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালান। তার (সুমন) বাড়ি সোনারগাঁয়ের মাঝেরচর গ্রামে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক সন্দ্বীপ জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধারকাজ করে। দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে দুই শিশু, এক নারীসহ চারজন নিহত হয়েছে। দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, চার যাত্রী ঘটনাস্থলেই দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। গুরুতর দগ্ধ ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক আছিফ জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-১৮৫৮), মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক থানা হেফাজতে আছে। বাসচালক পালিয়ে গেছেন। নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দুর্ঘটনায় নিহত ৩ : এদিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও সিরাজদীখানে পৃথক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সন্ধ্যায় জেলার শ্রীনগরে যাত্রীবাহী সৌরভী পরিবহনের বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী এবং এর আগে ভোরে জেলার সিরাজদীখানে ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় বাস সুপারভাইজার নিহত হন। নিহত মোটরসাইকেলের চালক মো. সোহেল (৫০) ও আরোহী মতিউর রহমানের (৫০) বাড়ি কেরানীগঞ্জের তালেরপুর কলাতিয়া এলাকায়। আর নিহত বাসের সুপারভাইজার তারেক মিয়ার বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়।
শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, ভোর ৫টার দিকে ঘন কুয়াশার কবলে জেলার সিরাজদীখানের নিমতলা রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এক্সপ্রেসওয়েতে ঢাকামুখো লেনে থেমে থাকা ট্রাকের পেছনে পূর্বাশা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দিলে বাসের সুপারভাইজার তারেক মিয়া মারা যান।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস উল্টে নিহত ২ : এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনায় বাস দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে চান্দিনার তীরচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ফেনীগামী স্টারলাইন পরিবহনের একটি বাস তীরচর এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। বাসটি প্রথমে মহাসড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা দেয়। পরে ঢাকামুখী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলো ফেনীর ফুলগাজী থানার উত্তর আনন্দপুর এলাকার সাইদুল হক মজুমদার (৩৪) এবং নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার চরফকিরা গ্রামের মো. আরমান হোসেন (১৬)। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।
রাঙ্গাবালীতে মাহিন্দ্রাচাপায় শিশুর মৃত্যু : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে মাহিন্দ্রা গাড়ির চাপায় সুরাইয়া (৬) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বেলা ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের যুগিরহাওলা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুরাইয়া ওই গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াস হাওলাদারের একমাত্র মেয়ে। স্থানীয়রা জানান, সুরাইয়া পুকুর পাড়ে বসে খেলছিল। হঠাৎ একটি মাহিন্দ্রা ঘোরানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পাড়ে উঠে যায়। এতে মাহিন্দ্রার নিচে চাপা পড়ে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবার শোকে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
