নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে, নির্বাচন ঠেকিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ফেমার প্রেসিডেন্ট মনিরা খান। তিনি বলেন, অনেকে চায় ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হোক। ফলে আগামী নির্বাচন ভ-ুলের আশঙ্কা রয়েছে। যারা ভন্ডুল করতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে হবে। গতকাল শুক্রবার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে তিনি এসব কথা বলেন।
মুনিরা খান বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ জরুরি। থ্রি এম মানি, মাসল ও ম্যানিপুলেশনের চ্যালেঞ্জ রোধে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীলতা এবং জনসচেতনতা জরুরি। অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো একটি ভালো নির্বাচনের জন্য জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক দুই সিইসি নূরুল হুদা ও হাবিবুল আওয়াল সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যর্থতার দায়ে পদত্যাগ করতে পারতেন। তারা শপথ ভঙ্গ করে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করেছেন। শুধু মার্কা দেখে নয়, ইশতেহার ও প্রার্থীর যোগ্যতা দেখে ভোট দেওয়া উচিত। তা না হলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার তো নয়ই, ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে পারে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার বিধানটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি পরিবর্তন করা উচিত। জুলাই সনদে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নে সব দল সম্মত হলেও বাস্তবে কেউই তা রক্ষা করেননি। জামায়াতে ইসলামী একজনও নারী প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ায় আমি অসন্তুষ্ট।’
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের রায়। দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিতে না পারার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ লাঘবের সুযোগ পাবেন ভোটাররা। প্রকৃত ভোটের মাধ্যমে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে এবারের নির্বাচনে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।
ছায়া সংসদে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের পরাজিত করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।
