জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে সংশয় জানিয়েছেন রাজশাহীর সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। বিএনপি ও জামায়াত দুই দলের প্রার্থীরাই বলছেন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে ভোটগ্রহণ কাজে দেখতে চান না তারা। প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি করেছেন তারা। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটগ্রহণে যেসংখ্যক কর্মকর্তা দরকার, নতুন করে তাদের নিয়োগ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া, সঠিক আশ্বাস আর নিরাপত্তা পেলে পুরনো কর্মকর্তাদের দিয়েও ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব বলে দাবি তাদের।
আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু না হলেও রাজশাহীর ছয়টি আসনেই এখন ভোটের হাওয়া তুঙ্গে। সব আসনেই মূল আলোচনায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন আর জামায়াতের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু আর জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল হক মিলন, জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ। রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ডিএমডি জিয়াউর রহমান, জামায়াতের ডা. আব্দুল বারী। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম, জামায়াতের মনজুর রহমান। রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ আর এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হক। সব প্রার্থীই এখান নিজেদের মাঠ গোছানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
নির্বাচনী মাঠে একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও একটি বিষয়ে দুপক্ষই একমত। এটি হলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে রাজনীতিসম্পৃক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মকর্তাকে চান না কোনো দলের প্রার্থীই। বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোট কারচুপির সঙ্গে জড়িতদের এবারের নির্বাচনে যুক্ত করার ঘোরবিরোধী এখানকার দ্ইু দলের প্রার্থীরাই।
রাজশাহী-৩ আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থী শফিকুল হক মিলন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে স্বচ্ছতা চাই, সবার অংশগ্রহণ চাই। কারও পক্ষে বা বিপক্ষে মত দিক, এমন কিছু আমরা প্রশাসনের কাছে চাই না।
নির্বাচনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা আমরা প্রত্যাশা করি। একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে যেসব প্রিসাইডিং অফিসার নেওয়া হয়েছে, তারা অনেকেই দলীয় কাজের সঙ্গে জড়িত। প্রশাসনকে এটি খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করছি। যদি কোনো দলীয় লোক প্রিসাইডিং অফিসার বা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার থাকে, তাদের নাম বাদ দেওয়ার অনুরোধ করছি। সে যে দলেরই হোক, দলীয় কোনো লোককে ভোটগ্রহণের কাজে জড়িত করলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা যাবে না। রাজশাহী-৬ আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থী ও রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ বলেন, এখন পর্যন্ত মাঠের পরিবেশ ভালো দেখলেও আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে চিন্তিত। বিগত নির্বাচনগুলোতে যারা ভোট কেটেছে, কারচুপির ভোটের যারা কর্মকর্তা ছিলেন, তাদের এবারের নির্বাচনে দায়িত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানাই।
রাজশাহী সদর আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহীর মানুষ শান্তিপ্রিয়। আশা করছি সামনের নির্বাচনে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবে। এজন্য সবার আন্তরিকতা প্রত্যাশা করছি।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির রাজশাহী-১ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন দল বিভিন্ন কায়দায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে ব্যাহত করছে। আমরা আশা করব লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে এবং নির্বাচনটা সুন্দর হবে।
তবে রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে নির্বাচনী কাজে সম্পৃক্ত সবাইকে বাদ দিয়ে নতুন লোক নিয়োগ করা কঠিন। সুন্দর পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে পুরাতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমেও ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব।
রাজশাহীর ছয়টি নির্বাচনী আসনে ভোটগ্রহণের জন্য ৭৭৮টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৭৭৮ প্রিসাইডিং অফিসার ও ৪ হাজার ৬৪১ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।
